ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ইসি একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নির্দেশে কাজ করছে: রাকিব


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৪৯:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৮৫ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

ব্যালট পেপার নিয়ে শঙ্কা এবং নির্বাচন কমিশনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ‘অনৈতিক’ প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ঘেরাও করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির দাবি, জবরদস্তিমূলকভাবে বিভিন্ন নির্বাচনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন, যার নেতিবাচক প্রভাব ভবিষ্যতের জাতীয় নির্বাচনেও পড়তে পারে।

রোববার সকালে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে জড়ো হন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং কমিশনের ওপর বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের প্রতিবাদে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নির্দেশনায় কাজ করছে। বিশেষ করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা দিতে নির্বাচনের তারিখ বারবার পরিবর্তন ও স্থগিত করা হয়েছে।

রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা নিয়মিত নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছে। কমিশন বা সচিবালয়ে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক কাজ না থাকলেও তারা অবাধে যাতায়াত করছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজেদের অনুকূল প্রশাসনিক সেটআপ ছাড়া তারা নির্বাচন করতে ভয় পায়। জামাতপন্থি উপাচার্য, প্রক্টর এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ওএমআর মেশিন ছাড়া তারা কোথাও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে রাজি নয়। শাবিপ্রবিতে পাঁচ দিন নির্বাচন বন্ধ রেখে পুনরায় চালু করার ঘটনাই তার বড় উদাহরণ।

ছাত্রদল সভাপতি দাবি করেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন হল সংসদ নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থনে ছাত্রদল ভালো ফল করছে। এই অগ্রযাত্রা ঠেকানো এবং ভবিষ্যতের জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেই নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই আজকের এই কর্মসূচি। যদি জবরদস্তিমূলক সিদ্ধান্ত ও বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব বন্ধ না হয়, তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

কর্মসূচিতে ছাত্রদল তিনটি দাবি তুলে ধরে জানায়—পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে নেওয়া হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এছাড়া বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত বলে দাবি করে সংগঠনটি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

ইসি একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নির্দেশে কাজ করছে: রাকিব

আপডেট সময় : ০১:৪৯:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

ব্যালট পেপার নিয়ে শঙ্কা এবং নির্বাচন কমিশনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ‘অনৈতিক’ প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ঘেরাও করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির দাবি, জবরদস্তিমূলকভাবে বিভিন্ন নির্বাচনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন, যার নেতিবাচক প্রভাব ভবিষ্যতের জাতীয় নির্বাচনেও পড়তে পারে।

রোববার সকালে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে জড়ো হন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং কমিশনের ওপর বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের প্রতিবাদে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নির্দেশনায় কাজ করছে। বিশেষ করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা দিতে নির্বাচনের তারিখ বারবার পরিবর্তন ও স্থগিত করা হয়েছে।

রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা নিয়মিত নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছে। কমিশন বা সচিবালয়ে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক কাজ না থাকলেও তারা অবাধে যাতায়াত করছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজেদের অনুকূল প্রশাসনিক সেটআপ ছাড়া তারা নির্বাচন করতে ভয় পায়। জামাতপন্থি উপাচার্য, প্রক্টর এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ওএমআর মেশিন ছাড়া তারা কোথাও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে রাজি নয়। শাবিপ্রবিতে পাঁচ দিন নির্বাচন বন্ধ রেখে পুনরায় চালু করার ঘটনাই তার বড় উদাহরণ।

ছাত্রদল সভাপতি দাবি করেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন হল সংসদ নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থনে ছাত্রদল ভালো ফল করছে। এই অগ্রযাত্রা ঠেকানো এবং ভবিষ্যতের জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেই নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই আজকের এই কর্মসূচি। যদি জবরদস্তিমূলক সিদ্ধান্ত ও বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব বন্ধ না হয়, তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

কর্মসূচিতে ছাত্রদল তিনটি দাবি তুলে ধরে জানায়—পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে নেওয়া হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এছাড়া বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত বলে দাবি করে সংগঠনটি।