ঢাকা ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সিরিয়াল কিলার সম্রাটের আসল পরিচয় উদ্ঘাটিত, জানা গেল চাঞ্চল্যকর তথ্য


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৮৮ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

সাভারে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার সিরিয়াল কিলারের আসল নাম ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ নয়। পুলিশ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নিশ্চিত করেছে যে, তার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ, বাবার নাম পান্না শেখ। তিনি পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান। তার তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে বড় বোনের নাম শারমিন। জন্মস্থান ও পৈতৃক বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে। পরিবারের কিছু আত্মীয় বরিশাল এলাকায় বসবাস করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সবুজ পরিচয় লুকিয়ে ভবঘুরে নারীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ফাঁদ পেতেন। পরে, যদি তারা অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্ক রাখতো বা অন্য কেউ তাদের সঙ্গে অনৈতিক কাজ করতো, তিনি তাদের হত্যা করতেন। পুলিশ তার স্বীকারোক্তি যাচাই–বাছাই করছে।

ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আদালতে সবুজের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক ঘটনায় তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে সবুজ কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে আসেন। পরে আরেক যুবকের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক থাকায় প্রথমে যুবককে হত্যা করে দোতলায় লুকিয়ে রাখেন। এরপর সেই তরুণীকে নিচতলায় হত্যা করে মরদেহ কাঁধে নিয়ে দোতলার টয়লেটে ঢুকিয়ে দুজনকে একসাথে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন।

সাভার থানা পুলিশ রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সবুজকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে দুজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে সবুজকে কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সবুজ ২০২৫ সালের ৪ জুলাই প্রথম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওই রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যা করেন। এরপর ২৯ আগস্ট এক যুবককে কমিউনিটি সেন্টারে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে দেন। ১১ অক্টোবর আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার হয়। ১৯ ডিসেম্বর এবং সর্বশেষ গত শনিবার তিনি আরও দুইজনকে হত্যা ও মরদেহ পুড়িয়ে দেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

সিরিয়াল কিলার সম্রাটের আসল পরিচয় উদ্ঘাটিত, জানা গেল চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

সাভারে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার সিরিয়াল কিলারের আসল নাম ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ নয়। পুলিশ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নিশ্চিত করেছে যে, তার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ, বাবার নাম পান্না শেখ। তিনি পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান। তার তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে বড় বোনের নাম শারমিন। জন্মস্থান ও পৈতৃক বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে। পরিবারের কিছু আত্মীয় বরিশাল এলাকায় বসবাস করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সবুজ পরিচয় লুকিয়ে ভবঘুরে নারীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ফাঁদ পেতেন। পরে, যদি তারা অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্ক রাখতো বা অন্য কেউ তাদের সঙ্গে অনৈতিক কাজ করতো, তিনি তাদের হত্যা করতেন। পুলিশ তার স্বীকারোক্তি যাচাই–বাছাই করছে।

ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আদালতে সবুজের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক ঘটনায় তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে সবুজ কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে আসেন। পরে আরেক যুবকের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক থাকায় প্রথমে যুবককে হত্যা করে দোতলায় লুকিয়ে রাখেন। এরপর সেই তরুণীকে নিচতলায় হত্যা করে মরদেহ কাঁধে নিয়ে দোতলার টয়লেটে ঢুকিয়ে দুজনকে একসাথে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন।

সাভার থানা পুলিশ রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সবুজকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে দুজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে সবুজকে কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সবুজ ২০২৫ সালের ৪ জুলাই প্রথম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওই রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যা করেন। এরপর ২৯ আগস্ট এক যুবককে কমিউনিটি সেন্টারে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে দেন। ১১ অক্টোবর আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার হয়। ১৯ ডিসেম্বর এবং সর্বশেষ গত শনিবার তিনি আরও দুইজনকে হত্যা ও মরদেহ পুড়িয়ে দেন।