মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জয় ও পলকের বিচার কার্যক্রম শুরু
- আপডেট সময় : ০১:৫৯:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২১০৩ বার পড়া হয়েছে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞ চালানোর অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এ মামলায় সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে দুই আসামির অব্যাহতি চেয়ে করা আইনজীবীদের আবেদন খারিজ করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়, যার মাধ্যমে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হলো।
অভিযোগ পাঠের সময় জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা এবং তিনি নির্দোষ।
জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম বলেন, ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কোনো আদেশ বা হস্তক্ষেপ ছিল না। প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। আগের কোনো মামলাতেও ইন্টারনেট বন্ধের কারণে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে—এমন দাবি করা হয়নি। ফলে অভিযোগটি ভিত্তিহীন।
পলকের আইনজীবী জানান, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের জন্য তাদের আবেদন ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করেছেন। তিনি বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্র প্রস্তুতের বিষয়ে প্রসিকিউশন কোনো গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণ হাজির করতে পারেনি। ইন্টারনেট বন্ধ হয়নি দাবি করে তিনি আরও বলেন, সে সময় বিটিআরসির চেয়ারম্যান ডাটা সেন্টার পোড়ানোর তথ্য দিলে তার ভিত্তিতেই পলক গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছিলেন।
এ মামলায় দুই আসামির মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন জুনায়েদ আহমেদ পলক। তাকে বুধবার সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অপর আসামি সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আইনি লড়াই চালাচ্ছেন।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ২১ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়। ওইদিন পলকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ এবং জয়ের পক্ষে মনজুর আলম শুনানি করেন। তারা অভিযোগের বিরোধিতা করে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন জানান। তবে প্রসিকিউশন অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে।
গত ১১ জানুয়ারি চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন এবং তিনটি চার্জ পড়ে শোনান।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন পলক। এর পরদিন ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সদস্যরা হামলা চালায়। একই সঙ্গে ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দেওয়ার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ অন্তত ২৮ জন নিহত হন। এছাড়া উত্তরা এলাকায় সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগও রয়েছে।
এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ১০ ডিসেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয়কে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন আদালত। গ্রেফতার থাকায় একই দিনে পলককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর আগে ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।


























