ইরানকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার হুমকি ট্রাম্পের
- আপডেট সময় : ০৪:২৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২০৮৩ বার পড়া হয়েছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি সৃষ্টি করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত কঠোর’ পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানকে ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ করার নির্দেশনাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নিউজ নেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরানের পক্ষ থেকে যেকোনো হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে। তাঁর ভাষায়, “যদি কোনো কিছু ঘটে, ইরান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। এ বিষয়ে আমি অত্যন্ত কঠোর নির্দেশ দিয়েছি।”
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে হামলা হলে তা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা হবে—ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের এমন হুঁশিয়ারির পরই ট্রাম্পের এ মন্তব্য এলো।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, বাইডেন প্রশাসনের সময়ে ইরানের হুমকির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত শক্ত অবস্থান নেওয়া হয়নি। ট্রাম্পের মতে, “একজন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব শুধু দপ্তরের মর্যাদা রক্ষা নয়, হুমকির মুখে থাকা মানুষদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা।” তিনি আরও বলেন, হুমকি যদি কোনো ব্যক্তির দিকেও আসে, সে ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট না হলেও যুক্তরাষ্ট্র কঠোর জবাব দেবে।
এদিকে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’ মালাক্কা প্রণালি অতিক্রম করে উত্তর আরব সাগরের দিকে অগ্রসর হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এটি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর অতিক্রমের সময় রণতরীটি স্বয়ংক্রিয় পরিচয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) বন্ধ রেখেছিল, যা নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে রাজনৈতিক প্রতিবাদে রূপ নেয়। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প ইরানি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ক্ষমতা ধরে রাখতে সহিংস পথ বেছে না নিয়ে সুশাসনে মনোযোগ দেওয়া উচিত। খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ইরানে নাশকতা ও হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করার পরই ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করছে।



























