ঢাকার ২৮ হাজার পুরনো বাস সরানোর পরিকল্পনা নিয়ে রিজওয়ানা হাসানের মন্তব্য
- আপডেট সময় : ০৩:৩৬:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২১০২ বার পড়া হয়েছে
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ঢাকার বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উৎস হলো পুরোনো বাস ও নির্মাণসামগ্রী। তবে শহরের বিদ্যমান ২৮ হাজার পুরোনো বাস মাত্র দেড় বছরের মধ্যে সরানো সম্ভব নয়। এই সমস্যার সমাধানে সরকার ইতিমধ্যে একনেক সভায় ইলেকট্রিক বাস চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদফতরে আয়োজিত ‘নির্বাচন ম্যানুফেস্টো টক’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব তথ্য জানান।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রায় ১৩ শতাংশ আসে ইটভাটা ও নির্মাণসামগ্রী থেকে এবং ৬ শতাংশ আসে পুরোনো বাস থেকে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ঢাকায় এমন বাস খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যা কালো ধোঁয়া নির্গত করে না। তিনি বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে; পরবর্তী সরকার এটিকে অব্যাহত রাখবে কি না, সেটিই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।”
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, আগে পরিবেশকে প্রাধান্য দেওয়া হতো না। তবে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপে ২০২৫ সালে ঢাকার বায়ুদূষণ আগের বছরের তুলনায় কমেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাভারের ইটভাটা বন্ধ রাখা এবং নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখার মাধ্যমে আগামী তিন বছরের মধ্যে ঢাকা দূষণের শীর্ষ স্থান থেকে সরতে পারে।
শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মাত্র ৪-৬ জন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে শব্দ দূষণ রোধ করা সম্ভব নয়। তাই সংশোধিত বিধিমালায় পুলিশকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
বন ও নদী সংরক্ষণ প্রসঙ্গে রিজওয়ানা জানান, শালবন, চুনোতি অভয়ারণ্য ও সোনাদিয়াকে দখলমুক্ত করা হচ্ছে। সোনাদিয়াতে ইকো-পার্কের নামে নেওয়া ২০ হাজার একর বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার চারপাশের নদী ও ২০টি খাল রক্ষার জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রকল্প প্রেরণ করা হয়েছে। তিস্তা নদী সংরক্ষণের প্রকল্প চীনের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
পলিথিন ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জনগণকে সচেতন হতে হবে। বাজার থেকে পলিথিন আনা বন্ধ করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, আটটি বিভাগীয় শহরের নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করার কাজ চলছে। এর মধ্যে ছয়টি প্রকল্প অনুমোদিত, বাকি দুটির অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।
পরবর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “প্রাকৃতিক বন পুনরুদ্ধার, বায়ু ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবেশ ও প্রকৃতিকে প্রাধান্য দিলে প্রকৃত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।”


























