ইতালি পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগ: ১০ মাস ধরে নিখোঁজ মাদারীপুরের ১০ যুবক
- আপডেট সময় : ০২:০১:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২০৯৫ বার পড়া হয়েছে
লিবিয়া হয়ে ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রার পথে মাদারীপুরের ১০ যুবক গত ১০ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তারা বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন—এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই পরিবারের কাছে। অথচ প্রত্যেক পরিবারের কাছ থেকে ২৮ থেকে ৩০ লাখ টাকা আদায় করেছে একটি মানবপাচারকারী দালালচক্র। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নিখোঁজ সন্তানদের ফিরিয়ে দিতে সরকারের সহযোগিতা দাবি করেছে।
নিখোঁজ যুবকেরা হলেন—মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের নয়াকান্দি এলাকার আনোয়ার বেপারীর ছেলে লিমন বেপারী (১৯), হেমায়েত মাতুব্বরের ছেলে রবিউল মাতুব্বর (২২), দত্তেরহাট এলাকার টিটু মাতুব্বরের ছেলে মো. জয় মাতুব্বর (২০), মোক্তার হাওলাদারের ছেলে জীদান হোসেন হাওলাদার (১৮), মোস্তফাপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া এলাকার জুলহাস চোকদারের ছেলে ওয়ালিদ হাসান অভি (১৯), পেয়ারপুর ইউনিয়নের মাছকান্দি এলাকার মোহাম্মদ আলী (২২), রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর ইউনিয়নের মাচ্চর এলাকার আবুল বাশার মাতুব্বরের ছেলে শরিফুল ইসলাম (২৭), একই ইউনিয়নের পাখুল্লা এলাকার হাশেম খাঁর ছেলে আজমুল খাঁ (৩০), মোল্লাকান্দি এলাকার কালু মজুমদারের ছেলে তুহিন মজুমদার (২৩) এবং শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার মো. মাহাবুব (২১)।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যেসব এলাকায় এক বছর আগেও টিনশেড ঘর ছিল, সেখানে এখন ডুপ্লেক্স বাড়ি গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মানবপাচারের অর্থেই এসব বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে দালালচক্রের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যায়।
নিখোঁজদের স্বজনরা জানান, মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের গাজীরচর এলাকার জাহাঙ্গীর ঢালীর স্ত্রী পেয়ারার বেগমের প্রলোভনে পড়ে যুবকেরা বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সরাসরি ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে জনপ্রতি ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়। গত বছরের জানুয়ারিতে তারা বাড়ি ছাড়েন। পরে লিবিয়ায় নিয়ে তাদের আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং মুক্তিপণের নামে আরও লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়।
সবশেষে গত বছরের এপ্রিল মাসে দালালের মাধ্যমে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে লিবিয়া হয়ে ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে তারা। এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ লিমনের বাবা আনোয়ার বেপারী বলেন, “ছেলেকে লিবিয়ায় আটকে রেখে মোট ২৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। ১০ মাস ধরে কোনো খবর নেই।”
জয়ের বাবা টিটু মাতুব্বর বলেন, “পেয়ারার বেগমই জানেন আমার ছেলে কোথায় আছে।”
শরিফুলের মা রাজিয়া বেগম বলেন, “ছেলে বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে জানি না। আমি আমার ছেলের সন্ধান চাই এবং দালালদের কঠিন বিচার চাই।”
অভিযোগ রয়েছে, পেয়ারার বেগমের বড় ছেলে ফারদিন ঢালী ইতালি থেকে মানবপাচারের নির্দেশনা দেন এবং ছোট ছেলে সৌরভ পরিবারগুলোর কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে। এ চক্রের সঙ্গে শরীয়তপুরের সবুজ কাজী ও মুজাহিদ শেখ জড়িত বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিখোঁজদের একজনের পরিবার একটি মামলা করেছে এবং সেই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি পরিবারগুলো লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “দালালের মাধ্যমে বিদেশ যাত্রা না করতে বারবার সতর্ক করা হলেও অনেকেই তা মানছেন না। এতে প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষতির ঘটনা ঘটছে। মানবপাচার রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”






















