শ্বাসরোধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ: স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার দুই
- আপডেট সময় : ০৬:২২:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২১০১ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লায় পারিবারিক কলহের জেরে এক গৃহবধূকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর পশ্চিমপাড় এলাকায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত গৃহবধূ ফারজানা আক্তার লিমা (২২) কুমিল্লা হাউসিং এস্টেট ২ নম্বর সেকশনের শাহী জামে মসজিদ এলাকার মৃত রহিম মিয়ার মেয়ে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী।
অভিযুক্ত স্বামী শিপন মিয়া কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নেয়ামতকান্দি গ্রামের মৃত সুজন মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবারসহ ধর্মসাগর পশ্চিমপাড় এলাকায় বসবাস করতেন এবং পেশায় পিঠা বিক্রেতা ছিলেন।
নিহতের বড় ভাই রায়হান জানান, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শিপন ফোন করে তাকে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। ফোনে চিৎকার ও চেঁচামেচির শব্দ শোনা যায়। পরে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে গিয়ে লিমাকে ঘরের মেঝেতে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় শিপন ও তার বড় ভাই রিপন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে লিমাকে উদ্ধার করে পাশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রায়হান আরও অভিযোগ করেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করার পর থেকেই শিপন তার বোনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। তবে নিজের পছন্দে বিয়ে করার কারণে লিমা এসব বিষয় পরিবারকে জানাননি। তার দাবি, শিপনসহ পরিবারের সদস্যরা মিলে তাকে হত্যা করেছেন।
পুলিশ জানায়, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয় এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শরিফ ইবনে আলম জানান, নিহতের বড় ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় শিপনের বোন রবি আক্তার ও তার বড় ভাই রিপনের স্ত্রী সুমি আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।






















