ধর্মঘটে ফের অচল চট্টগ্রাম বন্দর
- আপডেট সময় : ১২:৩১:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২১১০ বার পড়া হয়েছে
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলসহ চার দফা দাবিতে ফের অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম।
রোববার সকাল ৮টা থেকে বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মবিরতি শুরু করলে জেটিগুলোতে সব ধরনের পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে স্থগিত থাকে পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রমও। সকাল থেকে বন্দরের ভেতরে কোনো ট্রেলার বা পণ্য পরিবহনের যানবাহন প্রবেশ করেনি।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন গণমাধ্যমকে জানান, সকাল থেকেই ধর্মঘট চলছে এবং কোথাও কোনো কাজ হচ্ছে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা শতভাগ সমর্থন জানিয়ে কর্মবিরতিতে অংশ নিয়েছেন। তবে আন্দোলন দমাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ভিন্ন পথ অবলম্বন করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ নামে দুই আন্দোলনকারীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে গেছে বলে তারা খবর পেয়েছেন।
এদিকে পবিত্র রমজান মাস ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বন্দরের এই অচলাবস্থা দেশের অর্থনীতিকে বড় ধরনের সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি থেকে বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি শুরু হয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে রূপ নেয়। নৌপরিবহন উপদেষ্টার আশ্বাসে গত বৃহস্পতিবার আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১৫ শ্রমিক নেতার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ তদন্তের জন্য দুদককে চিঠি দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
শ্রমিক-কর্মচারীদের হয়রানির অভিযোগ তুলে রোববার থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দর অচলের ডাক দেয় চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। ফলে কর্মবিরতি স্থগিতের মাত্র দুই দিনের মাথায় ফের অচল হয়ে পড়ে বন্দর কার্যক্রম।
আন্দোলনরত ১৫ শ্রমিককে শাস্তিমূলকভাবে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হলেও তারা কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কর্মবিরতির কারণে বন্দর ও ১৯টি বেসরকারি ডিপোতে প্রায় ৫১ হাজার থেকে ৫৪ হাজার টিইইউস কনটেইনার আটকা পড়ে। জেটিতে থাকা জাহাজগুলো থেকে পণ্য খালাস শুরু হলেও নতুন করে তা বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা প্রায় ১০০, যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

























