ফয়েজ আহমদের দেশত্যাগ প্রসঙ্গে যা বললেন উপদেষ্টা রিজওয়ানা
- আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২১০১ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই দেশ ছেড়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে জার্মানির উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন তিনি।
তার দেশ ছাড়ার পরপরই অনলাইন ও অফলাইনে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সমালোচকদের অভিযোগ, সম্প্রতি শুল্কফাঁকির মোবাইলফোন কেনাবেচা নিষিদ্ধ করে তিনি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও অসন্তোষ ছিল। এ কারণে তিনি এক অর্থে ‘পালিয়ে গেছেন’—এমন অভিযোগও ওঠে।
তবে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিষয়টিকে উড়িয়ে দেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সংস্কারমূলক কাজ অনেকের পছন্দ হয়নি। তাই একটি গোষ্ঠী তার দেশত্যাগকে ‘পালিয়ে যাওয়া’ হিসেবে প্রচার করছে।
এদিকে দেশত্যাগ এবং তা নিয়ে সৃষ্ট সমালোচনার মুখে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবও। শনিবার দিবাগত রাত ১টা ১৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, মোবাইল ব্যবসায়ী ও টেলিকম সংশ্লিষ্ট কিছু গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েছে।
তিনি লেখেন, ‘ফেব্রুয়ারির ৮, ৯ ও ১০ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিটি, পিটিডি ও বিটিআরসি থেকে বিদায় নিয়েছি। এরপর নির্বাচনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছি। প্রযুক্তিনির্ভর নির্বাচনি আয়োজনেও আমার কিছু অবদান ছিল। সহকর্মীদের কাছ থেকেও ঠিকভাবে বিদায় নিয়েছি। ১০ ফেব্রুয়ারি ছিল আমার অফিসিয়াল শেষ কর্মদিবস। সেদিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ফেয়ারওয়েল ডিনার করেছি। সহকর্মীরা গান গেয়ে আমাকে বিদায় দিয়েছেন।’
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও কটূক্তির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, ‘একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং সৎ ব্যক্তিকে অসম্মানজনক কথা বলার আগে তথ্য যাচাই করা উচিত। বিদায়ের সময় এক সহকর্মী জিজ্ঞেস করেছিলেন পরে কী করব। বলেছি, দ্রুত একটি চাকরি খুঁজতে হবে। দেশের জন্য কাজ করতে এসে আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমার সঞ্চয় প্রায় শেষ।’
পোস্টের পুনশ্চ অংশে তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব পালনকালে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। পুরোনো আইন ও নীতিমালা পরিবর্তনেও ব্যাপক পরিশ্রম করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে পারেন, তিনি কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন।
পোস্টের শেষে সবার কাছে দোয়া কামনা করে তিনি লেখেন, ‘ভালো থাকবেন, দোয়া করবেন।’


























