ঢাকা ০৮:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

নতুন মন্ত্রিসভা বড় হচ্ছে না, থাকছেন অভিজ্ঞ-নবীন নেতাদের সমন্বয়


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৪৭:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২১০৩ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল মঙ্গলবার দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তাঁর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেবেন। নতুন এই মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিভিন্ন তালিকা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এসব তালিকার কোনোটিই পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়।

দলের গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভার আকার ৩৫ থেকে ৩৭ সদস্যের মধ্যে সীমিত রাখা হতে পারে। এর মধ্যে ২৬ থেকে ২৭ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ৯ থেকে ১০ জন প্রতিমন্ত্রী থাকতে পারেন। শেষ মুহূর্তে আরও এক বা দুজন যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। অতীতে ২০০১ সালে বিএনপির মন্ত্রিসভা ৬০ সদস্যের হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। সে অভিজ্ঞতা থেকে এবার তুলনামূলক ছোট আকারের মন্ত্রিসভা গঠনের চিন্তা করছে দলটি।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রবীণ ও নবীন, অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতাদের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করতে চান তারেক রহমান। মন্ত্রিসভার সদস্য নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তিনি নিজেই প্রধান ভূমিকা রাখছেন এবং এ কাজে দলের স্থায়ী কমিটির একজন নেতাও যুক্ত রয়েছেন। এ ছাড়া দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ ছাড়া হাফিজ উদ্দিন আহমদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকসহ আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতা বিবেচনায় রয়েছেন। পাশাপাশি জোটভুক্ত দলের প্রতিনিধি, তরুণ নেতা, জেলা পর্যায়ের নেতা এবং বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া সুশাসন ও নাগরিক সেবার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দক্ষ ও সৎ ব্যক্তিদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের বিএনপি সরকারের সময় বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, যোগাযোগ, গৃহায়ণ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে নানা সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। সে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার দক্ষতা ও যোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় আসা বিএনপির নতুন সরকারের প্রতি বিশেষ নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর তারেক রহমান জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহারের ঘোষণা দিয়েছেন।

সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও করেছেন, যা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, নতুন সরকারের জন্য শুরুতেই অর্থনীতি ও প্রশাসনে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, মন্ত্রিসভায় বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রতিফলন ঘটলে সেটি সরকারের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে কাজ করবে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন মন্ত্রিসভার গঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন সরকারের কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা অনেকটাই নির্ভর করবে এই মন্ত্রিসভার ওপর।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

নতুন মন্ত্রিসভা বড় হচ্ছে না, থাকছেন অভিজ্ঞ-নবীন নেতাদের সমন্বয়

আপডেট সময় : ১১:৪৭:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল মঙ্গলবার দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তাঁর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেবেন। নতুন এই মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিভিন্ন তালিকা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এসব তালিকার কোনোটিই পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়।

দলের গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভার আকার ৩৫ থেকে ৩৭ সদস্যের মধ্যে সীমিত রাখা হতে পারে। এর মধ্যে ২৬ থেকে ২৭ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ৯ থেকে ১০ জন প্রতিমন্ত্রী থাকতে পারেন। শেষ মুহূর্তে আরও এক বা দুজন যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। অতীতে ২০০১ সালে বিএনপির মন্ত্রিসভা ৬০ সদস্যের হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। সে অভিজ্ঞতা থেকে এবার তুলনামূলক ছোট আকারের মন্ত্রিসভা গঠনের চিন্তা করছে দলটি।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রবীণ ও নবীন, অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতাদের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করতে চান তারেক রহমান। মন্ত্রিসভার সদস্য নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তিনি নিজেই প্রধান ভূমিকা রাখছেন এবং এ কাজে দলের স্থায়ী কমিটির একজন নেতাও যুক্ত রয়েছেন। এ ছাড়া দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ ছাড়া হাফিজ উদ্দিন আহমদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকসহ আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতা বিবেচনায় রয়েছেন। পাশাপাশি জোটভুক্ত দলের প্রতিনিধি, তরুণ নেতা, জেলা পর্যায়ের নেতা এবং বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া সুশাসন ও নাগরিক সেবার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দক্ষ ও সৎ ব্যক্তিদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের বিএনপি সরকারের সময় বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, যোগাযোগ, গৃহায়ণ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে নানা সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। সে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার দক্ষতা ও যোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় আসা বিএনপির নতুন সরকারের প্রতি বিশেষ নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর তারেক রহমান জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহারের ঘোষণা দিয়েছেন।

সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও করেছেন, যা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, নতুন সরকারের জন্য শুরুতেই অর্থনীতি ও প্রশাসনে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, মন্ত্রিসভায় বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রতিফলন ঘটলে সেটি সরকারের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে কাজ করবে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন মন্ত্রিসভার গঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন সরকারের কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা অনেকটাই নির্ভর করবে এই মন্ত্রিসভার ওপর।