ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

৪০ লাখ টাকার ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ ভারতে যান মাহদী হাসান


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৫৩:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৯১ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে ঘিরে দিল্লিতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সির বিষয়টি। ভারতের রাজধানীতে অবস্থানকালে তার কাছে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি থাকার অভিযোগে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তৎপরতা বাড়ে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় একটি ভিসা প্রসেসিং সেন্টারে পর্তুগালের ভিসার জন্য আবেদন করতে যান মাহদী হাসান। এ সময় কেউ তাকে শনাক্ত করে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে বিষয়টি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে।

বিবিসি বাংলার সঙ্গে কথা বলা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্র জানিয়েছে, দিল্লিতে আসার সময় মাহদী হাসান ভবিষ্যৎ খরচের জন্য সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সি এনেছিলেন, যার পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি হতে পারে। তবে অপর একটি সূত্র অর্থের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিশ্চিত করতে পারেনি।

সূত্রগুলো আরও জানায়, মঙ্গলবার সকাল থেকেই তার কাছে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে একাধিক অজানা নম্বর থেকে ফোন আসতে থাকে। একটি সূত্রের ভাষ্য, সকাল ১১টার দিকে তাকে শনাক্ত করা হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে পৌঁছে যায়। এরপর থেকেই বিভিন্ন নম্বর থেকে তার কাছে ফোন আসতে শুরু করে, যা থেকে তিনি পরিস্থিতির অস্বাভাবিকতা বুঝতে পারেন।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে মাহদী হাসান পাহাড়গঞ্জের একটি হোটেল ছেড়ে বিমানবন্দরের কাছাকাছি অন্য একটি হোটেলে ওঠেন। পরে রাতেই তার জন্য দিল্লি থেকে ঢাকাগামী ইন্ডিগোর একটি টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়।

নিরাপত্তা সংস্থার সূত্রগুলো জানিয়েছে, তিনটি বিষয় তাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে—ভারতবিরোধী বক্তব্য, একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার দাবি এবং ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করে মন্তব্য।

বুধবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে ঢাকাগামী ফ্লাইটে ওঠার আগে নিরাপত্তা চেকিংয়ের সময় তাকে আলাদা করে প্রায় আধঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়নি বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মাহদী হাসান অভিযোগ করেন, তাকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা পরিচয়ে আটক করা হয়েছিল এবং এ সময় তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে ছিল।

তবে ক্রিপ্টোকারেন্সি বহনের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে মাহদী হাসান এ বিষয়ে ‘গুজব’ বলে মন্তব্য করেন।

দিল্লিতে অবস্থানকালে ক্রিপ্টোকারেন্সি বহনের অভিযোগ, গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি এবং বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদ—সব মিলিয়ে মাহদী হাসানকে ঘিরে ঘটনাটি সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

৪০ লাখ টাকার ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ ভারতে যান মাহদী হাসান

আপডেট সময় : ১১:৫৩:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে ঘিরে দিল্লিতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সির বিষয়টি। ভারতের রাজধানীতে অবস্থানকালে তার কাছে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি থাকার অভিযোগে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তৎপরতা বাড়ে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় একটি ভিসা প্রসেসিং সেন্টারে পর্তুগালের ভিসার জন্য আবেদন করতে যান মাহদী হাসান। এ সময় কেউ তাকে শনাক্ত করে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে বিষয়টি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে।

বিবিসি বাংলার সঙ্গে কথা বলা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্র জানিয়েছে, দিল্লিতে আসার সময় মাহদী হাসান ভবিষ্যৎ খরচের জন্য সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সি এনেছিলেন, যার পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি হতে পারে। তবে অপর একটি সূত্র অর্থের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিশ্চিত করতে পারেনি।

সূত্রগুলো আরও জানায়, মঙ্গলবার সকাল থেকেই তার কাছে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে একাধিক অজানা নম্বর থেকে ফোন আসতে থাকে। একটি সূত্রের ভাষ্য, সকাল ১১টার দিকে তাকে শনাক্ত করা হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে পৌঁছে যায়। এরপর থেকেই বিভিন্ন নম্বর থেকে তার কাছে ফোন আসতে শুরু করে, যা থেকে তিনি পরিস্থিতির অস্বাভাবিকতা বুঝতে পারেন।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে মাহদী হাসান পাহাড়গঞ্জের একটি হোটেল ছেড়ে বিমানবন্দরের কাছাকাছি অন্য একটি হোটেলে ওঠেন। পরে রাতেই তার জন্য দিল্লি থেকে ঢাকাগামী ইন্ডিগোর একটি টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়।

নিরাপত্তা সংস্থার সূত্রগুলো জানিয়েছে, তিনটি বিষয় তাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে—ভারতবিরোধী বক্তব্য, একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার দাবি এবং ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করে মন্তব্য।

বুধবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে ঢাকাগামী ফ্লাইটে ওঠার আগে নিরাপত্তা চেকিংয়ের সময় তাকে আলাদা করে প্রায় আধঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়নি বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মাহদী হাসান অভিযোগ করেন, তাকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা পরিচয়ে আটক করা হয়েছিল এবং এ সময় তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে ছিল।

তবে ক্রিপ্টোকারেন্সি বহনের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে মাহদী হাসান এ বিষয়ে ‘গুজব’ বলে মন্তব্য করেন।

দিল্লিতে অবস্থানকালে ক্রিপ্টোকারেন্সি বহনের অভিযোগ, গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি এবং বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদ—সব মিলিয়ে মাহদী হাসানকে ঘিরে ঘটনাটি সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।