ঢাকা ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শ্যামনগরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে সংখ্যালঘুর জমি দখল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী

ইসরাইল তড়িঘড়ি করে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ফাঁসির আদেশ কার্যকর করছে।


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০২:৪৫:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২১০২ বার পড়া হয়েছে

প্রতীকী ছবি

ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য একটি বিতর্কিত বিল পাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফিলিস্তিনি লেখক মোহাম্মদ আল কিক আল জাজিরায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদাসীনতা কাজে লাগিয়ে ইসরাইল এই পদক্ষেপের দিকে এগোচ্ছে। ২০২২ সালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনের সময় কট্টরপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির এই বিলের প্রস্তাব দেন। গত নভেম্বরে বিলটি প্রথম পাঠে পাস হয় এবং জানুয়ারিতে এর বিধান জনসমক্ষে আসে। এতে বলা হয়েছে, দণ্ডাদেশের ৯০ দিনের মধ্যে আপিল ছাড়াই ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।

নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের শুধুই বন্দি না বলে যুদ্ধবন্দি হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত। কারণ তারা সামরিক দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বা কোনো অভিযোগ ছাড়াই বছরের পর বছর আটক থাকেন। বর্তমানে ইসরাইলি কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনিদের প্রায় এক তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক আটক অবস্থায় রয়েছেন, যার মধ্যে নারী ও শিশুও অন্তর্ভুক্ত। সামরিক আদালতে তাদের বিচার হয়, যা শুরু থেকেই পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে কারাগারে নির্যাতন, অনাহার ও চিকিৎসার অবহেলার ঘটনা বেড়েছে। একই সময় অন্তত ৮৮ জন ফিলিস্তিনি বন্দি কারাগারে প্রাণ হারিয়েছেন। মোহাম্মদ আল কিক নিজেও উল্লেখ করেছেন, ১০ বছর আগে তাকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘ সময় আটক করা হয়েছিল এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের প্রতিনিধিরাও তার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের ওপর এই পদ্ধতিগত নিপীড়ন জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সন্ত্রাস দমনকে যুক্তি দেখিয়ে ইসরাইলের দখলদারিত্ব ও মানবাধিকার লঙ্ঘন উপেক্ষা করছে। বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে হাজার হাজার বন্দির জীবন ঝুঁকিতে পড়বে, বিশেষ করে অতীতের ঘটনার ক্ষেত্রেও আইন প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লেখক সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি কেবল নিন্দা বা সংযম প্রদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে ইসরাইল এই আইন বাস্তবায়নের পথে এগোবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরাইলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

ইসরাইল তড়িঘড়ি করে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ফাঁসির আদেশ কার্যকর করছে।

আপডেট সময় : ০২:৪৫:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য একটি বিতর্কিত বিল পাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফিলিস্তিনি লেখক মোহাম্মদ আল কিক আল জাজিরায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদাসীনতা কাজে লাগিয়ে ইসরাইল এই পদক্ষেপের দিকে এগোচ্ছে। ২০২২ সালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনের সময় কট্টরপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির এই বিলের প্রস্তাব দেন। গত নভেম্বরে বিলটি প্রথম পাঠে পাস হয় এবং জানুয়ারিতে এর বিধান জনসমক্ষে আসে। এতে বলা হয়েছে, দণ্ডাদেশের ৯০ দিনের মধ্যে আপিল ছাড়াই ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।

নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের শুধুই বন্দি না বলে যুদ্ধবন্দি হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত। কারণ তারা সামরিক দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বা কোনো অভিযোগ ছাড়াই বছরের পর বছর আটক থাকেন। বর্তমানে ইসরাইলি কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনিদের প্রায় এক তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক আটক অবস্থায় রয়েছেন, যার মধ্যে নারী ও শিশুও অন্তর্ভুক্ত। সামরিক আদালতে তাদের বিচার হয়, যা শুরু থেকেই পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে কারাগারে নির্যাতন, অনাহার ও চিকিৎসার অবহেলার ঘটনা বেড়েছে। একই সময় অন্তত ৮৮ জন ফিলিস্তিনি বন্দি কারাগারে প্রাণ হারিয়েছেন। মোহাম্মদ আল কিক নিজেও উল্লেখ করেছেন, ১০ বছর আগে তাকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘ সময় আটক করা হয়েছিল এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের প্রতিনিধিরাও তার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের ওপর এই পদ্ধতিগত নিপীড়ন জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সন্ত্রাস দমনকে যুক্তি দেখিয়ে ইসরাইলের দখলদারিত্ব ও মানবাধিকার লঙ্ঘন উপেক্ষা করছে। বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে হাজার হাজার বন্দির জীবন ঝুঁকিতে পড়বে, বিশেষ করে অতীতের ঘটনার ক্ষেত্রেও আইন প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লেখক সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি কেবল নিন্দা বা সংযম প্রদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে ইসরাইল এই আইন বাস্তবায়নের পথে এগোবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরাইলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আহ্বান জানিয়েছেন।