ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গভবনে বিক্ষোভের সময় রাষ্ট্রপতিকে ফোন করেন নাহিদ


নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:৫০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৯৯ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গভবনের পরিস্থিতি সবচেয়ে উত্তপ্ত সময়ে তৎকালীন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে ফোন করেন। সেই দিন বিভিন্ন সংগঠনের ডাকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন গড়ে ওঠে।

গত শুক্রবার রাতেই বঙ্গভবনে নিজের কার্যালয়ে কালের কণ্ঠকে একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবরের সেই রাতের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দিনটি তার জীবনের অন্যতম বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা ছিল।

রাষ্ট্রপতি জানান, শুরুতে তিনি বুঝতে পারছিলেন না কারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন মহল থেকে নানা গুঞ্জন ভেসে আসছিল। রাত প্রায় ১২টার দিকে নাহিদ ইসলাম ফোন করে জানান, “এরকম একটি খবর পেয়েছি, ওরা আমাদের লোক নয়। আমি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা এগুলো সব ডিসপার্স করার চেষ্টা করছি।”

কিছুক্ষণ পর স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সরিয়ে নেন। তবে পুরো ভিড় সরে যায়নি। রাত দুইটা পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে।

রাত দুইটা থেকে তিনটা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ও বঙ্গভবনের অন্যান্য কর্মকর্তা জেগে ছিলেন। বাইরে তখনও বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দলে বৈঠক চলছিল। রাজধানীর রাজু ভাস্কর্য এলাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পয়েন্টে ‘রাষ্ট্রপতির অপসারণ চাই’ স্লোগান শোনা যাচ্ছিল।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ২২ অক্টোবর হঠাৎ করেই বঙ্গভবন ঘেরাও করা হয়। বিভিন্ন নামের ব্যানারে—কখনো অমুক দল, তমুক দল, ইনকিলাব মঞ্চ বা জুলাই ঐক্য—রাতারাতি গড়ে ওঠা প্ল্যাটফর্মের অধীনে একই ধরনের লোকজন রাস্তায় নামে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত বড় কর্মসূচির অর্থায়ন কোথা থেকে এসেছে।

ঘেরাও শুরুর পর সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের সদস্যরা বঙ্গভবন ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলেন। সেই সময়ে রাষ্ট্রপতির নজরে আসে একটি ঘটনা: এক তরুণী কাঁটাতারের বেড়ার ওপর লাফ দেন। রাষ্ট্রপতির দাবি, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত ও ভাড়াটিয়া চরিত্রের ছিল। সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের পর ওই তরুণী মাটিতে পড়ে ক্যামেরাম্যানকে ছবি তুলতে আহ্বান জানান। পরে নারী পুলিশ ও নারী সেনাসদস্যরা তাকে সরিয়ে নেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, রাতটি শুধু নিরাপত্তার জন্য নয়, মানসিকভাবেও অত্যন্ত চাপের ছিল। ফ্লাইওভার দিয়ে ঠেলাগাড়ি, ভ্যান ও কাভার্ডভ্যানে করে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসছিল। আশঙ্কা ছিল, ৫ আগস্টের মতো বঙ্গভবনেও লুটপাট হতে পারে। তবে তিনি নিশ্চিত করেন, তিনি পালিয়ে যাওয়ার মানুষ নন এবং পুরো সময় বঙ্গভবনের ভেতরেই ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় এবং সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থানের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এপিসি ব্যবহার করে ধীরে ধীরে বিক্ষোভকারীরা সরিয়ে আনা হয় এবং বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

বঙ্গভবনে বিক্ষোভের সময় রাষ্ট্রপতিকে ফোন করেন নাহিদ

আপডেট সময় : ০১:৫০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বঙ্গভবনের পরিস্থিতি সবচেয়ে উত্তপ্ত সময়ে তৎকালীন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে ফোন করেন। সেই দিন বিভিন্ন সংগঠনের ডাকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন গড়ে ওঠে।

গত শুক্রবার রাতেই বঙ্গভবনে নিজের কার্যালয়ে কালের কণ্ঠকে একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবরের সেই রাতের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দিনটি তার জীবনের অন্যতম বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা ছিল।

রাষ্ট্রপতি জানান, শুরুতে তিনি বুঝতে পারছিলেন না কারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন মহল থেকে নানা গুঞ্জন ভেসে আসছিল। রাত প্রায় ১২টার দিকে নাহিদ ইসলাম ফোন করে জানান, “এরকম একটি খবর পেয়েছি, ওরা আমাদের লোক নয়। আমি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা এগুলো সব ডিসপার্স করার চেষ্টা করছি।”

কিছুক্ষণ পর স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সরিয়ে নেন। তবে পুরো ভিড় সরে যায়নি। রাত দুইটা পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে।

রাত দুইটা থেকে তিনটা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ও বঙ্গভবনের অন্যান্য কর্মকর্তা জেগে ছিলেন। বাইরে তখনও বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দলে বৈঠক চলছিল। রাজধানীর রাজু ভাস্কর্য এলাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পয়েন্টে ‘রাষ্ট্রপতির অপসারণ চাই’ স্লোগান শোনা যাচ্ছিল।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ২২ অক্টোবর হঠাৎ করেই বঙ্গভবন ঘেরাও করা হয়। বিভিন্ন নামের ব্যানারে—কখনো অমুক দল, তমুক দল, ইনকিলাব মঞ্চ বা জুলাই ঐক্য—রাতারাতি গড়ে ওঠা প্ল্যাটফর্মের অধীনে একই ধরনের লোকজন রাস্তায় নামে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত বড় কর্মসূচির অর্থায়ন কোথা থেকে এসেছে।

ঘেরাও শুরুর পর সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের সদস্যরা বঙ্গভবন ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলেন। সেই সময়ে রাষ্ট্রপতির নজরে আসে একটি ঘটনা: এক তরুণী কাঁটাতারের বেড়ার ওপর লাফ দেন। রাষ্ট্রপতির দাবি, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত ও ভাড়াটিয়া চরিত্রের ছিল। সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের পর ওই তরুণী মাটিতে পড়ে ক্যামেরাম্যানকে ছবি তুলতে আহ্বান জানান। পরে নারী পুলিশ ও নারী সেনাসদস্যরা তাকে সরিয়ে নেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, রাতটি শুধু নিরাপত্তার জন্য নয়, মানসিকভাবেও অত্যন্ত চাপের ছিল। ফ্লাইওভার দিয়ে ঠেলাগাড়ি, ভ্যান ও কাভার্ডভ্যানে করে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসছিল। আশঙ্কা ছিল, ৫ আগস্টের মতো বঙ্গভবনেও লুটপাট হতে পারে। তবে তিনি নিশ্চিত করেন, তিনি পালিয়ে যাওয়ার মানুষ নন এবং পুরো সময় বঙ্গভবনের ভেতরেই ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় এবং সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থানের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এপিসি ব্যবহার করে ধীরে ধীরে বিক্ষোভকারীরা সরিয়ে আনা হয় এবং বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।