পাবনায় চাঁদা না পেয়ে কৃষকের ৫ লাখ টাকার গাজর লুট, আটক ২ যুবদল কর্মী
- আপডেট সময় : ০৫:৩৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২০৯৩ বার পড়া হয়েছে
পাবনার ঈশ্বরদীতে চাঁদার টাকা না পেয়ে এক কৃষকের লিজ নেওয়া সাড়ে তিন বিঘা জমি থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার গাজর লুটের ঘটনায় যুবদলের দুই কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঈশ্বরদী ইপিজেড গেট এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল ঠাকুরপাড়া গ্রামের মো. কালামের ছেলে মো. আশিস (৩০) এবং একই গ্রামের মো. পলানের ছেলে মো. পলাশ (২৯)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক মো. শরিফুল ইসলাম বছরভিত্তিক চুক্তিতে পাকশী ইউনিয়নের বেলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুল ইসলাম হব্বুল চেয়ারম্যানের দেড় বিঘা এবং পাকশী পেপার মিলস কলোনির চরকী গেটের পশ্চিম পাশে স্বপনের দুই বিঘা জমি লিজ নিয়ে গাজর চাষ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, আশিস ও পলাশ শরিফুল ইসলামের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেন। পরে ভয়ে শরিফুল ২৫ হাজার টাকা দিলেও বাকি টাকা না দেওয়ায় তাকে নিয়মিত ভয়ভীতি দেখানো হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বেলতলা এলাকার দেড় বিঘা জমি থেকে প্রায় ৩০০ মণ গাজর লুট করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য দুই লাখ টাকা। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে পাকশী পেপার মিলস কলোনির দুই বিঘা জমি থেকে আরও প্রায় ৩৫০ মণ গাজর লুট করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা।
এ ঘটনায় গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে শরিফুল ইসলাম দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেন।
ভুক্তভোগী কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তিনি গাজর চাষ করেছিলেন। কিন্তু চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তার সব ফসল লুট করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






















