বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় নতুন করে তদন্ত করবে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১১:৫৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২০৮৪ বার পড়া হয়েছে
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে বনানীর সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন সরকার দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও সেগুলোর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয় এবং সেই কমিশনের প্রতিবেদন বর্তমান সরকারের হাতে এসেছে। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময় হয়েছে এবং তিনি নিজেও সম্প্রতি প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা শুরু করেছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমি কয়েক দিন আগে প্রতিবেদনটি পুরোপুরি না দেখেই কিছু মন্তব্য করেছিলাম, যা আজ সংশোধন করছি। যেহেতু একটি স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিশন ইতোমধ্যে গঠন হয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে, তাই নতুন করে আর কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না।”
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে প্রায় ৭০টির মতো সুপারিশ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং বিচারাধীন মামলাগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। বাকি সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
শহীদ পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ড দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি ছিল এবং এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দফতরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন।
এই ঘটনায় বিডিআরের ১৩৯ জন সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৮৩ জনকে খালাস দিয়েছেন উচ্চ আদালত। তবে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ সাক্ষীর মধ্যে ৩০২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।


























