ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

বাবার সঙ্গে বিরোধের জেরে প্রাণ হারাল শিশু ইরা মনি, অভিযুক্তের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • / ২১০৭ বার পড়া হয়েছে

ছবি : সংগৃহীত

প্রতিবেশীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আট বছরের শিশু ইরা মনিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বাবু শেখ (৪৫) — এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইরা মনির বাড়ি সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় টমটমচালক। ইরা স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার বাবু শেখ প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের কথা স্বীকার করেছেন। জেলা পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মনিরুল ইসলামের সঙ্গে বাবু শেখের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে প্রতিশোধমূলকভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত রোববার সকালে চকলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে ইরা মনিকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান বাবু শেখ। পরে তাকে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে নিয়ে গিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় ওঠেন। সেখানে শিশুটির ওপর আক্রমণ চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান তিনি।

পরে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটি পাহাড় থেকে নেমে বোটানিক্যাল গার্ডেনের নির্মাণাধীন সড়কের কাছে পৌঁছালে শ্রমিকরা তাকে দেখতে পান। উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে কুমিরার কাজীপাড়া এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায় হলেও তিনি কুমিরায় ভাড়া বাসায় থাকতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না এবং সম্ভাব্য যৌন নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

বাবার সঙ্গে বিরোধের জেরে প্রাণ হারাল শিশু ইরা মনি, অভিযুক্তের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

আপডেট সময় : ১১:৩৭:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

প্রতিবেশীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আট বছরের শিশু ইরা মনিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বাবু শেখ (৪৫) — এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইরা মনির বাড়ি সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় টমটমচালক। ইরা স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার বাবু শেখ প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের কথা স্বীকার করেছেন। জেলা পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মনিরুল ইসলামের সঙ্গে বাবু শেখের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে প্রতিশোধমূলকভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত রোববার সকালে চকলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে ইরা মনিকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান বাবু শেখ। পরে তাকে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে নিয়ে গিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় ওঠেন। সেখানে শিশুটির ওপর আক্রমণ চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান তিনি।

পরে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটি পাহাড় থেকে নেমে বোটানিক্যাল গার্ডেনের নির্মাণাধীন সড়কের কাছে পৌঁছালে শ্রমিকরা তাকে দেখতে পান। উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে কুমিরার কাজীপাড়া এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায় হলেও তিনি কুমিরায় ভাড়া বাসায় থাকতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না এবং সম্ভাব্য যৌন নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।