গাজীপুরে মাদরাসা শিক্ষার্থী হত্যা: বাবার কাছে অভিযোগ দিতে চাওয়ায় ছোট ভাইকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২
- আপডেট সময় : ০৪:৪৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
- / ২১০৭ বার পড়া হয়েছে
গাজীপুরে ছোট ভাইকে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগে বড় ভাই ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাবার কাছে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে চাওয়াই কিশোর আ. রাহিমের (১৩) জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নিহতের বড় ভাই মো. আলামিন হোসেন (২৩) এবং তার বন্ধু আশিক আহমেদ (২০)। আশিক জয়দেবপুর থানার ডগরী খাসপাড়া গ্রামের কাজী নজরুল ইসলামের ছেলে।
বুধবার সকালে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন এ তথ্য জানান।
নিহত আ. রাহিম গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার ডগরী নয়াপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম কোহিনুরের ছেলে। সে স্থানীয় নয়াপাড়া এবাদিয়া দাখিল মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ সুপার জানান, রাহিম বাবার কাছে মোবাইল ফোন কেনার বায়না ধরলে বিষয়টি নিয়ে বড় ভাই আলামিনের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়। পরে ছোট ভাইকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে আলামিন তার বন্ধুদের নিয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জয়দেবপুর থানার বিকেবাড়ি পদ্মপাড়া এলাকার একটি শালবনে রাহিমকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে রাহিম বাবাকে সব জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে আলামিন তাকে হত্যা করে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
ঘটনার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে পাশের একটি গর্তে মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে প্রমাণ নষ্ট করতে রাহিমের পরনের জ্যাকেট পুড়িয়ে ফেলা হয় বলেও জানায় পুলিশ।
১ ফেব্রুয়ারি রাহিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা জয়দেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেবাড়ি পদ্মপাড়া এলাকা থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাহিমের বাবা তার পরনের পোশাক দেখে পরিচয় শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় মঙ্গলবার ভোরে মির্জাপুর এলাকা থেকে আলামিন ও আশিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু খায়ের, মো. মোজাম্মেল হোসেন, আমিনুল ইসলাম, মো. মহাবুবুর রহমান, লিপি রাণী সিনহা এবং জয়দেবপুর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।






















