হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত, বিপাকে ২০ হাজার নাবিক: জাতিসংঘ
- আপডেট সময় : ০১:০৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
- / ২০৯০ বার পড়া হয়েছে
হরমুজ প্রণালীতে প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থা (আইএমও)। সংস্থাটির প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ বলেন, চলমান উত্তেজনার কারণে ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রমোদতরীর প্রায় ১৫ হাজার যাত্রীও চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। খবর বিবিসির।
বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পারস্য উপসাগরের বন্দরগুলোকে উন্মুক্ত সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত করে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়।
সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান প্রণালীতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান কেবল চীনা জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করলে তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, প্রণালীর ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
এদিকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের এক লেকচারার আল-জাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তিনি জানান, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাজারেও ইতোমধ্যে প্রভাব দেখা যাচ্ছে। প্রথম দিনেই দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং ইউরোপে গ্যাসের মূল্য কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
ডিজেলের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্যাসনির্ভর দেশগুলো এখন বিকল্প জ্বালানি ও মজুত বৃদ্ধির দিকে ঝুঁকছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।



























