ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি কর্মচারীদের বেতন দিতে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ ইউনূস সরকারের


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৩১:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • / ২১০৬ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

ক্ষমতায় আসার প্রথম বছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ পরিচালন ব্যয় মেটাতে বিদেশ থেকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে ইউনূস সরকার। অর্থনীতিবিদরা এটিকে আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

রোববার (৮ মার্চ) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকার মোট ৯ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করে। এর মধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে পরিচালন খাতে। বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয়ের পরিবর্তে এই ঋণের বড় অংশ সাধারণ সরকারি সেবা ও পরিচালন ব্যয়ে ব্যবহৃত হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বিদেশি ঋণের অর্থ এনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়।

জানা যায়, এ ধরনের ব্যয় সাধারণত বাজেট সহায়তা হিসেবে পাওয়া অর্থ থেকে পরিশোধ করা হয়। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ মোট ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পেয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার নিয়েছে ইউনূস সরকার।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৯ শতাংশ।

যদিও এই হার আপাতদৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাংক সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ঋণনির্ভরতা বাড়লে ভবিষ্যতে ঋণফাঁদের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাশরুর রিয়াজ বলেন, সে সময় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে সরকার তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান নেয়। ফলে ৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক সহায়তার একটি বড় অংশ বাজেট সহায়তা হিসেবে আসে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে বাজেট সহায়তা চুক্তির ধারাবাহিকতায় ওই অর্থবছরে প্রায় চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার ছাড় পাওয়া যায়। সরকারের হাতে অর্থের ঘাটতি ছিল এমন নয়, বরং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত স্থিতিশীল পর্যায়ে আনাই ছিল বড় লক্ষ্য।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

সরকারি কর্মচারীদের বেতন দিতে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ ইউনূস সরকারের

আপডেট সময় : ১১:৩১:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

ক্ষমতায় আসার প্রথম বছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ পরিচালন ব্যয় মেটাতে বিদেশ থেকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে ইউনূস সরকার। অর্থনীতিবিদরা এটিকে আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

রোববার (৮ মার্চ) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকার মোট ৯ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করে। এর মধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে পরিচালন খাতে। বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয়ের পরিবর্তে এই ঋণের বড় অংশ সাধারণ সরকারি সেবা ও পরিচালন ব্যয়ে ব্যবহৃত হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বিদেশি ঋণের অর্থ এনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়।

জানা যায়, এ ধরনের ব্যয় সাধারণত বাজেট সহায়তা হিসেবে পাওয়া অর্থ থেকে পরিশোধ করা হয়। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ মোট ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পেয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার নিয়েছে ইউনূস সরকার।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৯ শতাংশ।

যদিও এই হার আপাতদৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাংক সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ঋণনির্ভরতা বাড়লে ভবিষ্যতে ঋণফাঁদের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাশরুর রিয়াজ বলেন, সে সময় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে সরকার তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান নেয়। ফলে ৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক সহায়তার একটি বড় অংশ বাজেট সহায়তা হিসেবে আসে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে বাজেট সহায়তা চুক্তির ধারাবাহিকতায় ওই অর্থবছরে প্রায় চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার ছাড় পাওয়া যায়। সরকারের হাতে অর্থের ঘাটতি ছিল এমন নয়, বরং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত স্থিতিশীল পর্যায়ে আনাই ছিল বড় লক্ষ্য।