জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতিকে ভুলিয়ে দিতে চায় সরকার: মামুনুল হক
- আপডেট সময় : ০৫:৩০:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
- / ২০৯২ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করেছেন, সরকার জনগণকে জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের ঘটনা ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবীর মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা: উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ অভিযোগ করেন।
মামুনুল হক বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার পর প্রথমে অনেকে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিল। সে সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে আবেগাপ্লুত হয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের প্রশংসা করতে দেখা যায়। তবে পরবর্তীতে তাদের অবস্থানে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তার ভাষ্য, ওই আন্দোলনে নিজেদের কৃতিত্ব না থাকায় ধীরে ধীরে তারা অবস্থান বদলাতে শুরু করে এবং এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থানে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির সঙ্গে খেলাফত মজলিসের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। অতীতে আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলনে দুই দল একসঙ্গে কাজ করেছে এবং নির্বাচনেও অংশ নিয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিএনপির সঙ্গে আগের অবস্থানে থাকা সম্ভব হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মামুনুল হক বিএনপির উদ্দেশে বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরশীলতার পরিণতি অতীতে দেখা গেছে। তার দাবি, দেশের ৬৮ শতাংশ মানুষের মতামতকে অগ্রাহ্য করা হলে জনগণ আবারও পিআর পদ্ধতির জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে নামতে পারে।
গোলটেবিল বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকারের অবস্থান কেন পরিবর্তিত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে জনগণের সামনে বাস্তবতা তুলে ধরার আহ্বান জানান। তার মতে, সংবিধান অনুযায়ী ৫০ শতাংশ ভোট পেলে গণভোট সফল হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ঐকমত্য কমিশনের সভাগুলোতে গণভোট বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং জুলাই সনদে স্বাক্ষরও করা হয়েছে। তার দাবি, বিষয়টি ইতোমধ্যে মীমাংসিত এবং এ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সুযোগ নেই।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবায়নের পথে এখন বিভিন্ন তর্ক–বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসব বিতর্কের শেষ কোথায়। তার মতে, সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে আগে যে ঐকমত্য ছিল, এখন তা ভেঙে যেতে দেখা যাচ্ছে।
মঞ্জু বলেন, জুলাই সনদকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে বাস্তবায়নের জন্য তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মুনির, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী এবং এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নিয়ামুল বশীর।




























