মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে মার্কিনীদের আহ্বান, হরমুজ রক্ষায় মিত্রদের সহায়তা চান ট্রাম্প
- আপডেট সময় : ১১:৪৭:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
- / ২০৯১ বার পড়া হয়েছে
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের কমপক্ষে ১২টি দেশ থেকে দ্রুত নিরাপদে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখতে মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়েছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে নিরাপত্তা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তির বিষয়ে তিনি প্রস্তুত নন। বরং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে আরও হামলার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরানের ‘শত্রুদের’ জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। ড্রোন হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আজ ভোরে ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ করা হয়েছে। জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর মতে, হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা
বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়ে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে। শনিবার একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, “যত দ্রুত সম্ভব ইরাক ছেড়ে চলে যাওয়াই নিরাপদ।”
দূতাবাস আরও সতর্ক করে বলেছে, যারা ইরাকে থাকবেন, তাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। কারণ ইরানের সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ইরানের হামলার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের আরও অন্তত ১২টি দেশ থেকেও নিরাপদে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে ওমান থেকে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
ট্রাম্পের আহ্বান ও জাপানের অবস্থান
হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা জোরদারে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর জন্য মিত্র দেশগুলোর প্রতি ট্রাম্প আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জাপান এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
জাপানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরে বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এনএইচকে-কে জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় আত্মরক্ষা বাহিনী পাঠানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, শুধু ট্রাম্পের অনুরোধের ভিত্তিতে জাপান সঙ্গে সঙ্গে নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠাবে না। “জাপান নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেবে— এটাই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ,” বলেন তিনি।
সুইজারল্যান্ডের আকাশপথ ব্যবহারে না
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানের সময় মার্কিন সামরিক বিমানের জন্য সুইজারল্যান্ডের আকাশপথ ব্যবহারের দুটি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সুইস সরকার।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের নিরপেক্ষতা নীতির কারণে যুদ্ধ সংক্রান্ত সামরিক উদ্দেশ্যে আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যায় না।
তবে সুইস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্য তিনটি বিমানের চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে— যার একটি রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত এবং বাকি দুটি পরিবহন বিমান।

























