কৃষি উৎপাদন বাড়াতে আজ দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন
- আপডেট সময় : ১১:১৭:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
- / ২০৯৫ বার পড়া হয়েছে
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ঈদের আগেই দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় খাল খননের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
কৃষিনির্ভর দেশ হওয়া সত্ত্বেও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, নদী ও খাল শুকিয়ে যাওয়া এবং সেচ সংকটের কারণে কৃষি খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে। প্রথম ধাপে ৫৪টি জেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার খাল খনন কর্মসূচির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আধুনিক ও টেকসই পদ্ধতিতে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে কৃষি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জও থাকবে বলে মনে করছেন তারা।
গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি চালু করেন। এর লক্ষ্য ছিল বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য তা ব্যবহার করা। সে সময় সারা দেশে প্রায় ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খনন করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে চালু করা হয় ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি।
এই উদ্যোগ কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগোয় দেশ। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দখল, ভরাট এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রমের কারণে অনেক খাল হারিয়ে গেছে। ফলে কোথাও জলাবদ্ধতা, আবার কোথাও শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে সরকার আবারও খাল পুনরুদ্ধার ও খননের উদ্যোগ নিয়েছে। সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খাল পুনঃখনন কৃষি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেচের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে, যাতে জলাবদ্ধতা দূর হয় এবং কৃষি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন থাকে। এ ধরনের প্রকল্প জাতীয় অর্থনীতির জন্যও সুফল বয়ে আনবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু খাল খনন করলেই হবে না, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। খননের পর দ্রুত ভরাট হয়ে গেলে প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাবে না। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার জন্য টেকসই খাল খনন জরুরি। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে যেন কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি না হয়, সেদিকেও কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হারিয়ে যাওয়া খালগুলো পুনরুদ্ধার করা গেলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

























