ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ছয় মাসে সরকারের ব্যাংক ঋণ অর্ধলক্ষ কোটি টাকা অতিক্রম


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৩৯:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • / ২১০১ বার পড়া হয়েছে

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণ অর্ধলক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। জুলাই থেকে ডিসেম্বর শেষে এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা, যা পুরো অর্থবছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রোববার রাতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ব্যাংকঋণের পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সরকারের ঋণের তথ্যও তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে সরকারের ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা, যেখানে পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রা ২১ হাজার কোটি টাকা।

এই ছয় মাসে দেশের দায়িত্বে ছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এ সময় উন্নয়ন কার্যক্রম তুলনামূলক ধীরগতির থাকায় ঋণের বড় অংশ ব্যয় হয়েছে পরিচালন খাতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যাংকঋণ প্রায় আট গুণ বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যেখানে ঋণ ছিল ৬ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, সেখানে চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে ৫৩ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। অন্যদিকে, ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ঋণ কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই খাত থেকে ঋণ ছিল ২৪ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা, যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৮৬১ কোটিতে—অর্থাৎ প্রায় ১৫ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা কম।

বর্তমানে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ অনেকটাই ব্যাংকনির্ভর হয়ে উঠেছে। আগে সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে বড় অংশের ঋণ সংগ্রহ করা হলেও, মুনাফার হার কমে যাওয়ায় এতে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কমেছে। ফলে এ খাত থেকে ঋণ সংগ্রহও কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণ এসেছে মাত্র ২ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা।

এর পরিবর্তে সরকার উচ্চ সুদে ট্রেজারি বিল ও বন্ড বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করছে। ভালো মুনাফার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও এসব বন্ডে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বিনিয়োগে দীর্ঘদিন ধরে স্থবিরতা থাকায় সরকারি ঋণ বাড়লেও তা এখনো বেসরকারি খাতকে তেমন চাপে ফেলছে না। তবে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ বাড়লে ব্যাংকঋণের জন্য প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে, যা বেসরকারি খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

চলতি অর্থবছরে সরকার মোট ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি এবং ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ২১ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রথম ছয় মাসেই ব্যাংক ও অন্যান্য খাত মিলিয়ে সরকারের মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

ছয় মাসে সরকারের ব্যাংক ঋণ অর্ধলক্ষ কোটি টাকা অতিক্রম

আপডেট সময় : ১১:৩৯:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণ অর্ধলক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। জুলাই থেকে ডিসেম্বর শেষে এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা, যা পুরো অর্থবছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রোববার রাতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ব্যাংকঋণের পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সরকারের ঋণের তথ্যও তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে সরকারের ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা, যেখানে পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রা ২১ হাজার কোটি টাকা।

এই ছয় মাসে দেশের দায়িত্বে ছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এ সময় উন্নয়ন কার্যক্রম তুলনামূলক ধীরগতির থাকায় ঋণের বড় অংশ ব্যয় হয়েছে পরিচালন খাতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যাংকঋণ প্রায় আট গুণ বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যেখানে ঋণ ছিল ৬ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, সেখানে চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে ৫৩ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। অন্যদিকে, ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ঋণ কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই খাত থেকে ঋণ ছিল ২৪ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা, যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৮৬১ কোটিতে—অর্থাৎ প্রায় ১৫ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা কম।

বর্তমানে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ অনেকটাই ব্যাংকনির্ভর হয়ে উঠেছে। আগে সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে বড় অংশের ঋণ সংগ্রহ করা হলেও, মুনাফার হার কমে যাওয়ায় এতে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কমেছে। ফলে এ খাত থেকে ঋণ সংগ্রহও কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণ এসেছে মাত্র ২ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা।

এর পরিবর্তে সরকার উচ্চ সুদে ট্রেজারি বিল ও বন্ড বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করছে। ভালো মুনাফার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও এসব বন্ডে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বিনিয়োগে দীর্ঘদিন ধরে স্থবিরতা থাকায় সরকারি ঋণ বাড়লেও তা এখনো বেসরকারি খাতকে তেমন চাপে ফেলছে না। তবে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ বাড়লে ব্যাংকঋণের জন্য প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে, যা বেসরকারি খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

চলতি অর্থবছরে সরকার মোট ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি এবং ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ২১ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রথম ছয় মাসেই ব্যাংক ও অন্যান্য খাত মিলিয়ে সরকারের মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।