ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

জুলাই সনদ: ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্তে কি তৈরি হচ্ছে সংকট?


নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২০৯২ বার পড়া হয়েছে

জুলাই সনদ ও গণভোটকে ঘিরে সংসদের উত্তাপ এখন রাজপথেও ছড়িয়ে পড়ছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ ইস্যুতে ওয়াকআউটের পর বিরোধী দল বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে সরকার বলছে, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অটল। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামতও ভিন্নধর্মী। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ঐকমত্য কমিশনের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তই বর্তমান জটিলতার অন্যতম কারণ। তবে এক বিশ্লেষকের মতে, বিএনপি চাইলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে এই সংকট এড়াতে পারত। টেকসই সংস্কারের জন্য তারা সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন।

দীর্ঘদিন পর সংসদ অধিবেশন সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে এলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জটিলতা বাড়ছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে দুদিনই ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। প্রথমবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে এবং ষষ্ঠ কার্যদিবসে সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে তারা ওয়াকআউট করে।

সংকটের সূত্রপাত শপথ গ্রহণের দিন থেকেই। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন, তবে সরকারদলীয় সদস্যরা তা অনুসরণ করেননি। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ আদেশকে অবৈধ বলে উল্লেখ করে জানান, এটি রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার বহির্ভূত। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি কার্যকারিতা হারাতে যাচ্ছে। এসবের মধ্যে গণভোট, মানবাধিকার, দুদক ও গুমসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশে বিরোধী দলের সদস্যরা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছেন।

সংসদের এই উত্তাপ এখন রাজপথেও ছড়িয়ে পড়েছে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোট বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এ পরিস্থিতির জন্য অনেকেই ঐকমত্য কমিশনকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, দ্রুত নির্বাচনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর কিছু সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা দলগুলো অনিচ্ছাসত্ত্বেও মেনে নিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে গিয়ে উল্টো বিভাজন তৈরি হয়েছে। যথাযথ আলোচনা শেষে বিষয়গুলো গণভোটে নেওয়া হলে বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো যেত।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা সত্যিকার অর্থে জুলাই সনদকে গুরুত্ব দেন, তাদের উচিত সংস্কার প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক নিয়মে এগোতে দেওয়া, যাতে তা টেকসই হয়।’

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাব্বির আহমেদের মতে, বিএনপি চাইলে এই সংকট এড়ানো সম্ভব ছিল। বর্তমান অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে সুবিধা নিতে পারে পরাজিত স্বৈরশক্তি। তাই রাজনৈতিক ঐক্য বজায় রাখা জরুরি।

তবে উভয় বিশ্লেষকই সংসদের বিতর্ককে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং টেকসই সংস্কারের স্বার্থে আলোচনা অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

জুলাই সনদ: ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্তে কি তৈরি হচ্ছে সংকট?

আপডেট সময় : ১১:৪৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই সনদ ও গণভোটকে ঘিরে সংসদের উত্তাপ এখন রাজপথেও ছড়িয়ে পড়ছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ ইস্যুতে ওয়াকআউটের পর বিরোধী দল বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে সরকার বলছে, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অটল। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামতও ভিন্নধর্মী। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ঐকমত্য কমিশনের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তই বর্তমান জটিলতার অন্যতম কারণ। তবে এক বিশ্লেষকের মতে, বিএনপি চাইলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে এই সংকট এড়াতে পারত। টেকসই সংস্কারের জন্য তারা সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন।

দীর্ঘদিন পর সংসদ অধিবেশন সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে এলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জটিলতা বাড়ছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে দুদিনই ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। প্রথমবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে এবং ষষ্ঠ কার্যদিবসে সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে তারা ওয়াকআউট করে।

সংকটের সূত্রপাত শপথ গ্রহণের দিন থেকেই। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন, তবে সরকারদলীয় সদস্যরা তা অনুসরণ করেননি। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ আদেশকে অবৈধ বলে উল্লেখ করে জানান, এটি রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার বহির্ভূত। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি কার্যকারিতা হারাতে যাচ্ছে। এসবের মধ্যে গণভোট, মানবাধিকার, দুদক ও গুমসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশে বিরোধী দলের সদস্যরা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছেন।

সংসদের এই উত্তাপ এখন রাজপথেও ছড়িয়ে পড়েছে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোট বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এ পরিস্থিতির জন্য অনেকেই ঐকমত্য কমিশনকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, দ্রুত নির্বাচনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর কিছু সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা দলগুলো অনিচ্ছাসত্ত্বেও মেনে নিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে গিয়ে উল্টো বিভাজন তৈরি হয়েছে। যথাযথ আলোচনা শেষে বিষয়গুলো গণভোটে নেওয়া হলে বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো যেত।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা সত্যিকার অর্থে জুলাই সনদকে গুরুত্ব দেন, তাদের উচিত সংস্কার প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক নিয়মে এগোতে দেওয়া, যাতে তা টেকসই হয়।’

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাব্বির আহমেদের মতে, বিএনপি চাইলে এই সংকট এড়ানো সম্ভব ছিল। বর্তমান অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে সুবিধা নিতে পারে পরাজিত স্বৈরশক্তি। তাই রাজনৈতিক ঐক্য বজায় রাখা জরুরি।

তবে উভয় বিশ্লেষকই সংসদের বিতর্ককে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং টেকসই সংস্কারের স্বার্থে আলোচনা অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।