অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত না করার সিদ্ধান্ত, পেছনে হাঁটার ইঙ্গিত: টিআইবি
- আপডেট সময় : ০১:১১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
- / ২০৯০ বার পড়া হয়েছে
সুশাসন, বিচারব্যবস্থা, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তর না করার মাধ্যমে সরকার পিছু হটার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্দেশ্যে প্রণীত কিছু অধ্যাদেশ বাতিল ও সংশোধন বিষয়ে টিআইবির অবস্থান তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিচার বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করার শামিল। একইসঙ্গে বিচার, গুম প্রতিরোধ, দুদক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত না করার প্রবণতা সরকারের পিছিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তে সরকারের পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা অগ্রহণযোগ্য এবং এটি জবাবদিহিতার পরিপন্থী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আইনে পরিণত হওয়ার পথে থাকা ৯৮টি অধ্যাদেশের অনেকগুলোই উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুর্বল করা হয়েছে। যদিও ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টিকে আইনে রূপান্তরের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে টিআইবি, তবে যেসব অধ্যাদেশ বাতিল, সংশোধন বা পরবর্তীতে পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছে, সেগুলোর সমালোচনা করেছে সংস্থাটি।
টিআইবির মতে, সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় ও বিচারপতি নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ তিনটি অধ্যাদেশ রহিত করা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য নেতিবাচক। পাশাপাশি গুম প্রতিরোধ কমিশন নিয়ে সরকারের অবস্থানকেও তারা অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করে।
এছাড়া, রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও ‘জুলাই সনদ’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি জানায় টিআইবি।
সংস্থাটির মতে, রাষ্ট্র সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো সেই সম্ভাবনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এগুলো আত্মঘাতী এবং পেছনের দিকে যাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে বলেও মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে যে ইতিবাচক সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখন উদ্বেগে রূপ নিচ্ছে এবং সরকার সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।






















