সারাদেশ
জাল খতিয়ান কেলেঙ্কারি ভেস্তে দিল প্রশাসন: উত্তর কাউন্দিয়ায় কোটি টাকার খাস জমি উদ্ধার, সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দখল নিশ্চিত
- আপডেট সময় : ০২:২৭:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
- / ২০৮৪ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর অদূরে সাভার উপজেলার আমিনবাজার ; ঢাকায় প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলটি দিন দিন ভূমিদস্যুদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছে। জনসংখ্যার চাপ, আবাসন সংকট ও কৃষিজমি হ্রাসের সুযোগে একটি চক্র সরকারি জমি দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি উত্তর কাউন্দিয়া মৌজায় এমনই এক সুপরিকল্পিত জালিয়াতির চক্রান্ত উদঘাটন করে কোটি টাকার সরকারি খাস সম্পত্তি উদ্ধার করেছে প্রশাসন। অভিযানের নেতৃত্ব দেন আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন খান।
সরেজমিন অনুসন্ধান ও ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, উত্তর কাউন্দিয়া মৌজার প্রায় ১ একর সরকারি জমি আত্মসাতের লক্ষ্যে ২০২৪ সালে ‘৩১৫/২৪’ নম্বর একটি মিস মামলা দায়ের করে একটি ভূমিদস্যু চক্র। তারা ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে ‘৯৮৮ নম্বর’ একটি ভুয়া খতিয়ান আদালতে উপস্থাপন করে।
সেটেলমেন্ট অফিস ও ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের অফিসারদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে জাল পর্চা তৈরি করে ভূমিদস্যুরা ৩১৫/২৪ একটি‘মিস কেস’ দায়ের করে। পরবর্তীতে সেই মামলার রায় নিজেদের পক্ষে নিয়ে জমিটি ব্যক্তিমালিকানায় রূপান্তর করে নেয়।
বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খান বিষয়টি আমলে নেন। তিনি সংশ্লিষ্ট ‘মিস কেস’ পুনরায় পর্যালোচনা (রিভিউ) করে পূর্বের আদেশ বাতিল করেন এবং জমিটি পুনরায় সরকারি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জমিটি দখলমুক্ত করা হয় এবং সেখানে সরকারি মালিকানার সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়।
এ বিষয়ে শাহাদাত হোসেন খান বলেন,
“সরকারি খাস জমি জালিয়াতি ও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে দখল করে নেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। উত্তর কাউন্দিয়ার এই জমির ক্ষেত্রে একটি পরিকল্পিত জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানায় নেওয়া হয়েছিল। আমরা সেই মিস কেস পুনরায় রিভিউ করে বাতিল করেছি এবং জমিটি সরকারি খতিয়ানে ফিরিয়ে এনেছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের দখলদার ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট জালিয়াতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপে স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে।






















