বর্তমান সরকার শিক্ষাকে শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে : প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১২:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
- / ২০৮৮ বার পড়া হয়েছে
বর্তমান সরকার শিক্ষাকে জাতির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং একটি মানসম্মত, জীবনঘনিষ্ঠ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ—এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। এদিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিষয়টি উপস্থাপিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা খাতের ৪৩টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে সব উপজেলায় স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিজিটাল শিক্ষা বিস্তারে সরকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে দেড় হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সংযোগ প্রদান এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ‘এডু-আইডি’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং প্রতিটি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ চালু করা হবে।
মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) আগামী ছয় মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট (ফ্লাটার), পাইথন প্রোগ্রামিং এবং এআইভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।


























