হরমুজ পারাপারে কোনো টোল আরোপ করা যাবে না: ওমান
- আপডেট সময় : ০৫:৩০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
- / ২০৯০ বার পড়া হয়েছে
ইরান তাদের ১০ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে একটি বিতর্কিত শর্ত যুক্ত করেছে—হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি আদায়ের অধিকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান ও ওমান উভয় দেশই এই ফি নিতে পারবে। তবে ওমান স্পষ্টভাবে এর বিরোধিতা করে জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে কোনো ধরনের টোল আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়।
একটি সম্ভাব্য স্থায়ী শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ফি নেওয়ার অধিকার চাইছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ডেস্ক সূত্রে জানা গেছে, ওমানের পরিবহনমন্ত্রী বলেছেন—তাদের দেশ এমন একটি চুক্তির পক্ষপাতী, যেখানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা বা অতিরিক্ত ফি থাকবে না। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক এই জলপথে অবাধ ও নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করাই ওমানের অঙ্গীকার।
ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পারস্য উপসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়, এবং অতীতে এখানে কোনো দেশই টোল আরোপ করেনি।
তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই পথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ফি নেওয়া হতে পারে, যা যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে। দেশটির দাবি, চলমান সংঘাতে তাদের প্রতিরক্ষা, প্রশাসনিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা হয়। পাল্টা জবাবে ইরান হামলা চালানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে কার্যত চলাচল সীমিত করে দেয়। প্রায় পাঁচ সপ্তাহের সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ফি জাহাজের ধরন, বহন করা পণ্য এবং অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হবে, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানিয়েছেন, তেহরান ওমানের সঙ্গে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ করছে, যেখানে হরমুজ প্রণালী পারাপারের জন্য জাহাজকে অনুমতি ও লাইসেন্স নিতে হতে পারে। তার দাবি, এটি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার জন্য নয়, বরং আরও সুশৃঙ্খল করার উদ্দেশ্যে নেওয়া উদ্যোগ।
অন্যদিকে ওমান জানিয়েছে, তারা ইরানের সঙ্গে নৌ-চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।



























