ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে জমা


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২০৮৮ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মাসুমের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল সংখ্যক সাব-রেজিস্ট্রার বদলি করে শতকোটি টাকার ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে। বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার হোসেন এ আবেদন জমা দেন।

আবেদনে বলা হয়, সাব-রেজিস্ট্রার বদলির পাশাপাশি ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা ও জামিন বাণিজ্য, বিচারক পদায়নে অনিয়ম, অর্থপাচারসহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগগুলো বর্তমানে প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে ড. আসিফ নজরুল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

সাব-রেজিস্ট্রার বদলি সংক্রান্ত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে মাত্র আট মাসে নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে বদলি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের কর্মস্থল পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বদলির ক্ষেত্রে প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। গ্রেডভিত্তিক পদায়নের নিয়ম উপেক্ষা করে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তাদের উচ্চ গ্রেডের অফিসে এবং উল্টোভাবে উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের নিম্ন গ্রেডে বদলি করা হয়েছে। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানো কর্মকর্তাদের শাস্তিমূলক বদলির অভিযোগও উঠেছে।

এদিকে, গত বছরের ১ জুন আইন মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে বদলি-পদায়নে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই বলে সতর্কতা জারি করে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বিজ্ঞপ্তির আগেই বিপুল পরিমাণ ঘুষ লেনদেন সম্পন্ন হয় এবং বিজ্ঞপ্তির পর আর উল্লেখযোগ্য বদলি হয়নি।

এছাড়া ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা ও জামিন বাণিজ্য, বিচারক বদলি এবং অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগও দুদকে জমা পড়েছে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি অর্থের বিনিময়ে জামিন প্রভাবিত করেছেন এবং বিচারক পদায়নে অনিয়ম করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে জমা

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মাসুমের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল সংখ্যক সাব-রেজিস্ট্রার বদলি করে শতকোটি টাকার ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে। বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার হোসেন এ আবেদন জমা দেন।

আবেদনে বলা হয়, সাব-রেজিস্ট্রার বদলির পাশাপাশি ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা ও জামিন বাণিজ্য, বিচারক পদায়নে অনিয়ম, অর্থপাচারসহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগগুলো বর্তমানে প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে ড. আসিফ নজরুল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

সাব-রেজিস্ট্রার বদলি সংক্রান্ত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে মাত্র আট মাসে নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে বদলি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের কর্মস্থল পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বদলির ক্ষেত্রে প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। গ্রেডভিত্তিক পদায়নের নিয়ম উপেক্ষা করে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তাদের উচ্চ গ্রেডের অফিসে এবং উল্টোভাবে উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের নিম্ন গ্রেডে বদলি করা হয়েছে। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানো কর্মকর্তাদের শাস্তিমূলক বদলির অভিযোগও উঠেছে।

এদিকে, গত বছরের ১ জুন আইন মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে বদলি-পদায়নে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই বলে সতর্কতা জারি করে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বিজ্ঞপ্তির আগেই বিপুল পরিমাণ ঘুষ লেনদেন সম্পন্ন হয় এবং বিজ্ঞপ্তির পর আর উল্লেখযোগ্য বদলি হয়নি।

এছাড়া ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা ও জামিন বাণিজ্য, বিচারক বদলি এবং অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগও দুদকে জমা পড়েছে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি অর্থের বিনিময়ে জামিন প্রভাবিত করেছেন এবং বিচারক পদায়নে অনিয়ম করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করছে।