ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

মাসদারের বিরুদ্ধে সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, যা বললেন আইনমন্ত্রী


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ১০:২৭:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২১১৬ বার পড়া হয়েছে

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ মামলার বাদী সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে এক মক্কেলের কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়ার পরও তিনি মামলার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি, ফলে ভুক্তভোগীকে অতিরিক্ত ৪২ লাখ টাকার বেশি জরিমানা গুনতে হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এ বিষয়ে কথা বলেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তিনি পত্রিকায় দেখেছেন। একজন মক্কেল সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের কাছে অভিযোগ করেছেন যে– তার কাছ থেকে চেকের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি করণীয় নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি বার কাউন্সিলে গেলে সনদের বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবে। পাশাপাশি এতে মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি ও আয়কর সংশ্লিষ্ট বিষয় থাকতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখবে। আইন মন্ত্রণালয়ে আপাতত কিছু করণীয় নেই।

জানা গেছে, গত বছরের ১ ডিসেম্বর নূর প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের লিগ্যাল অ্যান্ড অ্যাডমিন অফিসার জামাল হোসাইন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এতে বলা হয়, কর সংক্রান্ত একটি মামলায় আপিল করার জন্য কোম্পানির চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বেপারী আইনজীবী মাসদার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মামলার কর শূন্য করে নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে মাসদার হোসেন মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে চেকের মাধ্যমে তাকে মোট ১ কোটি টাকা প্রদান করা হয়, যা তিনি রসিদ দিয়ে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ভ্যাট আপিলের জন্য অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অনুযায়ী, মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি যথাযথ তদারকি করেননি এবং কোম্পানিকে কোনো হালনাগাদ তথ্য দেননি। পরে অন্য আইনজীবীর মাধ্যমে জানা যায়, গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর মামলাটিতে ৪২ লাখ ৯ হাজার ২৭৩ টাকা জরিমানাসহ রায় হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, করের পুরো অঙ্ক মওকুফ করে দেওয়ার আশ্বাসে মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নেওয়া হলেও চুক্তি অনুযায়ী কোনো কাজ না করে কোম্পানিকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এ অবস্থায় নেওয়া অর্থ ক্ষতিপূরণসহ ফেরত চেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, মাসদার হোসেন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৪ সালে তিনি বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার দাবিতে রিট দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগের রায় এবং ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর বিচার বিভাগ পৃথককরণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়। ঐতিহাসিক এই মামলাটি ‘মাসদার হোসেন মামলা’ নামে পরিচিত।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

মাসদারের বিরুদ্ধে সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, যা বললেন আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১০:২৭:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ মামলার বাদী সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে এক মক্কেলের কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়ার পরও তিনি মামলার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি, ফলে ভুক্তভোগীকে অতিরিক্ত ৪২ লাখ টাকার বেশি জরিমানা গুনতে হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এ বিষয়ে কথা বলেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তিনি পত্রিকায় দেখেছেন। একজন মক্কেল সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের কাছে অভিযোগ করেছেন যে– তার কাছ থেকে চেকের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি করণীয় নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি বার কাউন্সিলে গেলে সনদের বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবে। পাশাপাশি এতে মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি ও আয়কর সংশ্লিষ্ট বিষয় থাকতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখবে। আইন মন্ত্রণালয়ে আপাতত কিছু করণীয় নেই।

জানা গেছে, গত বছরের ১ ডিসেম্বর নূর প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের লিগ্যাল অ্যান্ড অ্যাডমিন অফিসার জামাল হোসাইন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এতে বলা হয়, কর সংক্রান্ত একটি মামলায় আপিল করার জন্য কোম্পানির চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বেপারী আইনজীবী মাসদার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মামলার কর শূন্য করে নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে মাসদার হোসেন মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে চেকের মাধ্যমে তাকে মোট ১ কোটি টাকা প্রদান করা হয়, যা তিনি রসিদ দিয়ে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ভ্যাট আপিলের জন্য অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অনুযায়ী, মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি যথাযথ তদারকি করেননি এবং কোম্পানিকে কোনো হালনাগাদ তথ্য দেননি। পরে অন্য আইনজীবীর মাধ্যমে জানা যায়, গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর মামলাটিতে ৪২ লাখ ৯ হাজার ২৭৩ টাকা জরিমানাসহ রায় হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, করের পুরো অঙ্ক মওকুফ করে দেওয়ার আশ্বাসে মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নেওয়া হলেও চুক্তি অনুযায়ী কোনো কাজ না করে কোম্পানিকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এ অবস্থায় নেওয়া অর্থ ক্ষতিপূরণসহ ফেরত চেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, মাসদার হোসেন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৪ সালে তিনি বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার দাবিতে রিট দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগের রায় এবং ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর বিচার বিভাগ পৃথককরণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়। ঐতিহাসিক এই মামলাটি ‘মাসদার হোসেন মামলা’ নামে পরিচিত।