ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

শ্যামনগরে তেলবাহী গাড়ি আটকানোর হুমকি, নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন


সেলিম আহম্মেদ, জেলা ব্যুরো প্রধান, সাতক্ষীরা:
  • আপডেট সময় : ০৭:০৪:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২১৮৯ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পাশ্ববর্তী উপজেলা থেকে আসা মোটরসাইকেল আরোহীদের জোরপূর্বক তেল নেওয়ার চেষ্টা এবং তেলবাহী গাড়ি আটকানোর হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে সংবাদ সম্মেলন করেন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বেলাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী শ্যামনগরের ফিলিং স্টেশনগুলো রেশনিং পদ্ধতিতে সীমিত আকারে জ্বালানি সরবরাহ করছে।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউনিয়নভিত্তিক নির্দিষ্ট দিনে সুশৃঙ্খলভাবে তেল বিতরণ করা হচ্ছে। শনিবার ছিল নুরনগর ইউনিয়নের জন্য নির্ধারিত দিন, এবং সকাল থেকে নিয়ম মেনে জ্বালানি সরবরাহ চলছিল।

এ সময় হঠাৎ কালীগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়ন থেকে শতাধিক মোটরসাইকেল আরোহী এসে জ্বালানি দাবি করে। স্টেশন কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক নির্দেশনার কথা জানালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মোটরসাইকেল আরোহীরা ফিলিং স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন পথ অবরোধ করে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। এতে সাধারণ সেবা প্রত্যাশীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মৌতলা ইউনিয়নের শহিদুল নবী বাবু, যিনি কালীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং বিএনপি নেতা কাজী আলাউদ্দিনের আত্মীয় হিসেবে পরিচিত, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তিনি ফিলিং স্টেশনের মালিক নাহিদ নাজনীনকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। একই সঙ্গে তেলবাহী গাড়ি আটকানো, ভাঙচুর এবং ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, তেলবাহী গাড়িগুলো কালীগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে শ্যামনগরে প্রবেশ করে, ফলে ওই এলাকায় গাড়ি লুটপাট বা বাধা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া মালিক ও কর্মচারীদের যাতায়াতেও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্যামনগর ফিলিং স্টেশন সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সুশৃঙ্খলভাবে জ্বালানি সরবরাহ করে আসছে এবং প্রশাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানায়, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা সাময়িকভাবে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখতে বাধ্য হতে পারেন। প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সকল মহলের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

শ্যামনগরে তেলবাহী গাড়ি আটকানোর হুমকি, নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৭:০৪:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পাশ্ববর্তী উপজেলা থেকে আসা মোটরসাইকেল আরোহীদের জোরপূর্বক তেল নেওয়ার চেষ্টা এবং তেলবাহী গাড়ি আটকানোর হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে সংবাদ সম্মেলন করেন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বেলাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী শ্যামনগরের ফিলিং স্টেশনগুলো রেশনিং পদ্ধতিতে সীমিত আকারে জ্বালানি সরবরাহ করছে।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউনিয়নভিত্তিক নির্দিষ্ট দিনে সুশৃঙ্খলভাবে তেল বিতরণ করা হচ্ছে। শনিবার ছিল নুরনগর ইউনিয়নের জন্য নির্ধারিত দিন, এবং সকাল থেকে নিয়ম মেনে জ্বালানি সরবরাহ চলছিল।

এ সময় হঠাৎ কালীগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়ন থেকে শতাধিক মোটরসাইকেল আরোহী এসে জ্বালানি দাবি করে। স্টেশন কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক নির্দেশনার কথা জানালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মোটরসাইকেল আরোহীরা ফিলিং স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন পথ অবরোধ করে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। এতে সাধারণ সেবা প্রত্যাশীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মৌতলা ইউনিয়নের শহিদুল নবী বাবু, যিনি কালীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং বিএনপি নেতা কাজী আলাউদ্দিনের আত্মীয় হিসেবে পরিচিত, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তিনি ফিলিং স্টেশনের মালিক নাহিদ নাজনীনকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। একই সঙ্গে তেলবাহী গাড়ি আটকানো, ভাঙচুর এবং ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, তেলবাহী গাড়িগুলো কালীগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে শ্যামনগরে প্রবেশ করে, ফলে ওই এলাকায় গাড়ি লুটপাট বা বাধা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া মালিক ও কর্মচারীদের যাতায়াতেও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্যামনগর ফিলিং স্টেশন সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সুশৃঙ্খলভাবে জ্বালানি সরবরাহ করে আসছে এবং প্রশাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানায়, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা সাময়িকভাবে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখতে বাধ্য হতে পারেন। প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সকল মহলের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।