ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন,

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে  কোটি টাকার বিনিময়ে জমি রেজিস্ট্রি করেন

পর্ব – ০২


ফরিদুল আলম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৯:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২১৩৪ বার পড়া হয়েছে

সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনকে ঘিরে দুর্নীতির যে বিস্তৃত অভিযোগ সামনে এসেছে, তার পর্ব-১ প্রকাশের পর নতুন করে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, ঘুষ বাণিজ্য এবং জাল দলিলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

 

অভিযোগ রয়েছে, সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট কাজ করছে,আর এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা উমেদার পলাশ,আর এই পলাশের মাধ্যমে সকল প্রকার অবৈধ লেনদেন হয় । যেখানে অসাধু দলিল লেখক, দালাল এবং কিছু অফিস সহকারী জড়িত। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জমির শ্রেণী পরিবর্তন, ভুয়া মালিক সৃষ্টি এবং নিষিদ্ধ বা বিতর্কিত জমির দলিল সম্পাদন করা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

 

বিশেষ করে বিলামালিয়া মৌজার মধুমতি মডেল টাউনের অন্তর্ভুক্ত এসএ দাগ-৮৪০,আরএস দাগ-১৪০৭, জমির পরিমার ৮ শতাংশ ২০ অযুতাংশ যার দলিল নাম্বার ১৭৮২/২৫ এবং একই মৌজার সিএস – ১৬৫০ দাগ, আরএস -২২৩৪ আরএস- ৩৩৩৩ দাগ যার নাম্বার -১৮৪৭৯/২৫,৪৪৮৮ দাগ দলিল নাম্বার ১৭৬১৫/২৫,৪১১৬ দাগের দলিল নাম্বার -১৭১৭৮ এই জমির বিরুদ্ধে  উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এই মৌজার জমি প্রয় ৩০ লক্ষ টাকা গ্রহণের মাধ্যমে গোপনে রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ সবচেয়ে বেশি আলোচিত। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব ক্ষেত্রে প্রতি দলিলে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়, যার একটি বড় অংশ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভাগ-বাটোয়ারা হয়।

 

বিশেষ করে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু মৌজার জমি গোপনে রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ সবচেয়ে বেশি আলোচিত। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব ক্ষেত্রে প্রতি দলিলে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়, যার একটি বড় অংশ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভাগ-বাটোয়ারা হয়।

 

অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নগদ লেনদেনের মাধ্যমে এই অবৈধ অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অফিস কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর নিয়মিতভাবে এসব অর্থ নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

এদিকে, দলিল লেখক সমিতির একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, জাকির হোসেনের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়ে অনেকেই এখন বিপাকে পড়েছেন। ধার নেওয়া অর্থ ফেরত না দেওয়া এবং প্রভাব খাটিয়ে বিষয়গুলো চাপা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

 

অন্যদিকে, তার বিরুদ্ধে অফিসের ভেতরে অসদাচরণ, কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং মাদক সেবনের অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে। এসব বিষয়ে একাধিকবার প্রতিবাদ ও মানববন্ধন হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

সাব-রেজিস্টার জাকিরের এলাকার লোকের সাথে কথা বলে জানা যায়, উনার ভাইরা এখনো রাজমিস্ত্রির কাজ করে। তার বাবার এক ইঞ্চি জায়গাও নেই। উনি ছাত্র জীবনে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে লেখাপড়া করেছেন।সেই লোক এত কোটি টাকার মালিক হলো কিভাবে?

 

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জাকির হোসেন দাবি করেছেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল অবৈধ সুবিধা না পেয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি নিয়ম মেনে কাজ করছি। রাজস্ব আদায়ে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করেছি, যা আমার সততার প্রমাণ।”

 

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, রাজস্ব বৃদ্ধির আড়ালে অনিয়ম ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে কিনা, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

 

দুর্নীতির এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও তদন্ত সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেও তদন্ত কার্যক্রম দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

পর্ব-৩-এ থাকছে—

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন,

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে  কোটি টাকার বিনিময়ে জমি রেজিস্ট্রি করেন

আপডেট সময় : ০১:৩৯:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনকে ঘিরে দুর্নীতির যে বিস্তৃত অভিযোগ সামনে এসেছে, তার পর্ব-১ প্রকাশের পর নতুন করে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, ঘুষ বাণিজ্য এবং জাল দলিলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

 

অভিযোগ রয়েছে, সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট কাজ করছে,আর এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা উমেদার পলাশ,আর এই পলাশের মাধ্যমে সকল প্রকার অবৈধ লেনদেন হয় । যেখানে অসাধু দলিল লেখক, দালাল এবং কিছু অফিস সহকারী জড়িত। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জমির শ্রেণী পরিবর্তন, ভুয়া মালিক সৃষ্টি এবং নিষিদ্ধ বা বিতর্কিত জমির দলিল সম্পাদন করা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

 

বিশেষ করে বিলামালিয়া মৌজার মধুমতি মডেল টাউনের অন্তর্ভুক্ত এসএ দাগ-৮৪০,আরএস দাগ-১৪০৭, জমির পরিমার ৮ শতাংশ ২০ অযুতাংশ যার দলিল নাম্বার ১৭৮২/২৫ এবং একই মৌজার সিএস – ১৬৫০ দাগ, আরএস -২২৩৪ আরএস- ৩৩৩৩ দাগ যার নাম্বার -১৮৪৭৯/২৫,৪৪৮৮ দাগ দলিল নাম্বার ১৭৬১৫/২৫,৪১১৬ দাগের দলিল নাম্বার -১৭১৭৮ এই জমির বিরুদ্ধে  উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এই মৌজার জমি প্রয় ৩০ লক্ষ টাকা গ্রহণের মাধ্যমে গোপনে রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ সবচেয়ে বেশি আলোচিত। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব ক্ষেত্রে প্রতি দলিলে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়, যার একটি বড় অংশ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভাগ-বাটোয়ারা হয়।

 

বিশেষ করে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু মৌজার জমি গোপনে রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ সবচেয়ে বেশি আলোচিত। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব ক্ষেত্রে প্রতি দলিলে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়, যার একটি বড় অংশ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভাগ-বাটোয়ারা হয়।

 

অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নগদ লেনদেনের মাধ্যমে এই অবৈধ অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অফিস কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর নিয়মিতভাবে এসব অর্থ নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

এদিকে, দলিল লেখক সমিতির একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, জাকির হোসেনের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়ে অনেকেই এখন বিপাকে পড়েছেন। ধার নেওয়া অর্থ ফেরত না দেওয়া এবং প্রভাব খাটিয়ে বিষয়গুলো চাপা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

 

অন্যদিকে, তার বিরুদ্ধে অফিসের ভেতরে অসদাচরণ, কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং মাদক সেবনের অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে। এসব বিষয়ে একাধিকবার প্রতিবাদ ও মানববন্ধন হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

সাব-রেজিস্টার জাকিরের এলাকার লোকের সাথে কথা বলে জানা যায়, উনার ভাইরা এখনো রাজমিস্ত্রির কাজ করে। তার বাবার এক ইঞ্চি জায়গাও নেই। উনি ছাত্র জীবনে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে লেখাপড়া করেছেন।সেই লোক এত কোটি টাকার মালিক হলো কিভাবে?

 

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জাকির হোসেন দাবি করেছেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল অবৈধ সুবিধা না পেয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি নিয়ম মেনে কাজ করছি। রাজস্ব আদায়ে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করেছি, যা আমার সততার প্রমাণ।”

 

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, রাজস্ব বৃদ্ধির আড়ালে অনিয়ম ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে কিনা, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

 

দুর্নীতির এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও তদন্ত সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেও তদন্ত কার্যক্রম দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

পর্ব-৩-এ থাকছে—