ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতেই নিশাতকে হত্যা করেন প্রতিবেশী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে নিশাত জাহান (৬) নামে এক শিশুকে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মূলত ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতেই এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন প্রতিবেশী মো. ইছা মিয়া।


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০২:১৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২০৮৮ বার পড়া হয়েছে

এ ঘটনায় শিশুটির মা আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


এরপর বিকেলে এ ঘটনায় অভিযুক্ত অটোরিকশা চালক মো. ইছা মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যার দায় শিকার করেন ইছা মিয়া।


পুলিশ ও পরিবারের স্বজনরা জানান, গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে মোহনপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে চিপস কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হন স্থানীয় ডিএমসি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের নার্সারি বিভাগের শিক্ষার্থী শিশু নিশাত জাহান। পরে ঘটনার দুদিন পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে বাড়ির পাশের ঝোপ থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় শিশু নিশাতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শিশু নিশাত মোহনপুর গ্রামের মো.আবু সাদেকের মেয়ে।

এ দিকে ঘটনার পর রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ, ডিবি, পিবিআইসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তদন্ত চলাকালে পারিপার্শ্বিক বিবেচনায় পিবিআইয়ের সন্দেহ হয় এই ঘটনার সঙ্গে প্রতিবেশী অটোরিকশা চালক মো. ইছা মিয়া জড়িত থাকতে পারেন। পিবিআই ইছা মিয়াকে তাদের হেফাজতে নিলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শিশু নিশাত হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন।


জিজ্ঞাসাবাদে ইছা পিবিআইকে জানান, শিশুটিকে নিয়ে তিনি দিনভর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের রসুলপুর, শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘোরাফেরা করেন। পরে রাতে নির্জন ফাঁকা বাসায় অসৎ উদ্দেশ্যে শিশুটিকে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে সে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটি কান্না করতে থাকে এবং এই ঘটনা তার মা বাবাকে জানিয়ে দেবে বলে ইছাকে জানায়। মূলত ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ এবং বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে শিশুটিকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয় বলে পিবিআইকে জানায় ইছা মিয়া।

এ দিকে ইছাকে গ্রেফতারে খবরে এলাকাবাসী তার ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ইছার অটোরিকশাসহ তার বসতঘর আগুনে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেন। তারা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমরা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে ঘাতক ইছার ফাঁসি দাবি করছি।’

স্থানীয় অপর বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, ‘মাত্র ছয় বছরের শিশুর সঙ্গে এমন পাশবিক নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী মো. বাবুল মিয়া বলেন, ‘আমরা ঘাতকের প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি করছি।’

এ ব্যাপারে শিশুটির নানা লোকমান হোসেন জানান, নাতনির সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, এমন ঘটনা যেন আর কোনো শিশুর সঙ্গে না ঘটে। আমরা তার বিচার দাবি করছি। ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত ঘাতকের ক্ষমা নেই।

এ ঘটনায় পিবিআই পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, ঘাতক শিশুটিকে নিয়ে যে সব জায়গায় গিয়েছে, আমরা সবগুলো স্পট পরিদর্শন করেছি। মূলত সে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ এবং ঘটনাটি শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জেনে ফেলার ভয়েই তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ঝোপের মাঝে ফেলে দেয়।
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

বাংলাদেশ

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতেই নিশাতকে হত্যা করেন প্রতিবেশী

আপডেট সময় : ০২:১৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

এ ঘটনায় শিশুটির মা আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


এরপর বিকেলে এ ঘটনায় অভিযুক্ত অটোরিকশা চালক মো. ইছা মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যার দায় শিকার করেন ইছা মিয়া।


পুলিশ ও পরিবারের স্বজনরা জানান, গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে মোহনপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে চিপস কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হন স্থানীয় ডিএমসি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের নার্সারি বিভাগের শিক্ষার্থী শিশু নিশাত জাহান। পরে ঘটনার দুদিন পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে বাড়ির পাশের ঝোপ থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় শিশু নিশাতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শিশু নিশাত মোহনপুর গ্রামের মো.আবু সাদেকের মেয়ে।

এ দিকে ঘটনার পর রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ, ডিবি, পিবিআইসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তদন্ত চলাকালে পারিপার্শ্বিক বিবেচনায় পিবিআইয়ের সন্দেহ হয় এই ঘটনার সঙ্গে প্রতিবেশী অটোরিকশা চালক মো. ইছা মিয়া জড়িত থাকতে পারেন। পিবিআই ইছা মিয়াকে তাদের হেফাজতে নিলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শিশু নিশাত হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন।


জিজ্ঞাসাবাদে ইছা পিবিআইকে জানান, শিশুটিকে নিয়ে তিনি দিনভর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের রসুলপুর, শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘোরাফেরা করেন। পরে রাতে নির্জন ফাঁকা বাসায় অসৎ উদ্দেশ্যে শিশুটিকে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে সে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটি কান্না করতে থাকে এবং এই ঘটনা তার মা বাবাকে জানিয়ে দেবে বলে ইছাকে জানায়। মূলত ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ এবং বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে শিশুটিকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয় বলে পিবিআইকে জানায় ইছা মিয়া।

এ দিকে ইছাকে গ্রেফতারে খবরে এলাকাবাসী তার ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ইছার অটোরিকশাসহ তার বসতঘর আগুনে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেন। তারা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমরা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে ঘাতক ইছার ফাঁসি দাবি করছি।’

স্থানীয় অপর বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, ‘মাত্র ছয় বছরের শিশুর সঙ্গে এমন পাশবিক নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী মো. বাবুল মিয়া বলেন, ‘আমরা ঘাতকের প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি করছি।’

এ ব্যাপারে শিশুটির নানা লোকমান হোসেন জানান, নাতনির সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, এমন ঘটনা যেন আর কোনো শিশুর সঙ্গে না ঘটে। আমরা তার বিচার দাবি করছি। ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত ঘাতকের ক্ষমা নেই।

এ ঘটনায় পিবিআই পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, ঘাতক শিশুটিকে নিয়ে যে সব জায়গায় গিয়েছে, আমরা সবগুলো স্পট পরিদর্শন করেছি। মূলত সে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ এবং ঘটনাটি শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জেনে ফেলার ভয়েই তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ঝোপের মাঝে ফেলে দেয়।