ফেনীতে এক প্রবাসীর পৈতৃক সম্পত্তি গ্রাস করতে মরিয়া ভূমিদস্যু চক্র
- আপডেট সময় : ০১:৩৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
- / ২০৮৭ বার পড়া হয়েছে
বিশ্বাস ভালোবাসা সন্মান বোধ নিয়ে একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা পাড়ি জমান দেশের বাইরে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে প্রবাসে হাঁড়ভাঙা খাটুনি খাটছেন প্রবাসী সঞ্জয় পাল। স্বপ্ন ছিল দেশের মাটিতে নিজের পৈতৃক ভিটায় শান্তিতে থাকবেন, কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ফেনী সদর উপজেলার তুলাবাড়িয়া এলাকায় এই প্রবাসীর পৈতৃক সম্পত্তি দখল করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় একটি চিহ্নিত ভূমিদস্যু চক্র। নিজ আপনজনদের বিশ্বাসঘাতকতায় এই দখল প্রক্রিয়ায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তুলাবাড়িয়া মৌজার বিএস ৩০৯ দাগের অন্তর্গত ৬০ শতক ভূমির আদি মালিক ছিলেন সতীশ চন্দ্র পাল। তাঁর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে চার পুত্র— অপরঞ্জন পাল, স্বপন কুমার পাল, দুলাল চন্দ্র পাল ও দয়াল চন্দ্র পাল প্রত্যেকে ১৫ শতক করে ভূমির মালিকানা লাভ করেন। নিয়মানুযায়ী, কোনো আনুষ্ঠানিক বণ্টননামা ছাড়া কেউ এককভাবে জমি হস্তান্তর বা পাওয়ার দেওয়ার অধিকার রাখেন না।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, দুই ভাই স্বপন কুমার পাল ও দয়াল চন্দ্র পাল লালসার বশবর্তী হয়ে অন্য দুই ভাইয়ের (মৃত অপরঞ্জন ও দুলাল) হিস্যা তোয়াক্কা না করে পুরো সম্পত্তি গ্রাস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারা এলাকার এক চিহ্নিত প্রভাবশালী ভূমিদস্যুকে বিতর্কিত ওই জায়গার আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি) প্রদান করেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি বলে দাবি করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।
অভিযুক্তদের পলায়নপর নীতি ও অসংলগ্ন জবাব
সরেজমিনে সংবাদকর্মীরা অভিযুক্ত স্বপন কুমারের মুখোমুখি হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। সরকারি কালভার্টের জায়গা দখল প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। স্বপন পাল দাবি করেন, “এটি আমার জায়গা, আমার ভাই অপরঞ্জন কোন জায়গা পাবে না এটাই দাবি করে।
তবে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে যখন প্রশ্ন তোলা হয়— “চার ভাইয়ের সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও মাত্র দুই ভাই কীভাবে পুরো সম্পত্তির দখল বা পাওয়ার বিক্রি করলেন?” তখন তিনি চরম বিব্রত হয়ে পড়েন এবং কোনো আইনগত ভিত্তি দেখাতে ব্যর্থ হয়ে বারবার সত্য এড়ানোর চেষ্টা করেন।
এদিকে, কথিত পাওয়ার গ্রহীতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন যে তিনি আমমোক্তারনামার মূলে জায়গাটি ক্রয় করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের ভূমি আইন অনুযায়ী, ওয়ারিশি সম্পত্তিতে বণ্টননামা ছাড়া এক পক্ষের দ্বারা পুরো জমির পাওয়ার প্রদান বৈধ নয়
এ বিষয়ে সাংবাদিকরা আইনগত ব্যাখ্যা চাইলে ওই ব্যক্তি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং দ্রুত ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ওয়ারিশ মৃত অপরঞ্জন স্ত্রী
চিনু রাণী পাল অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন স্বপন ও দয়ালরা এর আগেও জাল টিপসই দিয়ে আমার মৃত স্বামীর সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়ে নে ঔ তাদের প্রাপ্য জায়গা দখল করে বিক্রি করেছিল। এদিকে প্রবাসী সঞ্জয় পালের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিকদের জানান আমরা ছোট থাকা অবস্থায় আমার বাবা প্রাপ্য সম্পত্তি আমার কাকারা বিভিন্ন কৌশলে জালিয়াতি করে হাতিয়ে নেয়। বর্তমানে যা আছে তাও দখল করে বিক্রির চেষ্টা করতেছে। অনুসন্ধানে পার্শ্ববর্তী আরেক ভুক্তভোগী উত্তম দেবনাথ সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন স্বপন ও দয়াল পাল আমাদের সাথে জায়গা বিক্রি করে বিশ্বাসঘাত করে। জায়গা কেনার সময় রাস্তা সহ দলিল করে পরবর্তী সন্ত্রাসী দিয়ে আবার জোরপূর্বক রাস্তার জায়গা কিনতে বাধ্য করে বর্তমানে ওই রাস্তাটিও আরেকজনকে দিয়ে দখল করে রেখেছে।
বর্তমানে বিএস ৩০৯ দাগের জায়গাটিসরেজমিনে দেখা গেছে, বিতর্কিত জায়গাটি একটি সরকারি রাস্তার পাশ ঘেঁষা এবং আকৃতিতে লম্বা জেটির মতো। এটি বাড়ি নির্মাণ বা চাষাবাদের জন্য মোটেও উপযোগী নয়। স্থানীয়দের মতে, কেবল সরকারি রাস্তা ও কালভার্ট দখল করে ব্যক্তিগত ফায়দা লুটতেই এই জালিয়াতি করা হয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই সেখানে কালভার্ট দখল করে দেয়াল তৈরি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
ইতিমধ্যেই ভুক্তভোগী চিনু রাণী পাল ফেনী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়াও ন্যায়বিচারের আশায় ফেনী জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের দপ্তরে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভুক্তভোগী ন্যায় বিচারে ঔ দ্রুত হস্তক্ষে প কামনা করছে পরিবারটি।

ফেনী মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তদন্ত না হওয়া এবং দ্রুত সীমানা নির্ধারণ ও বণ্টননামা কার্যকর না হলে এই বিরোধ চরম রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। প্রবাসী ও তাদের পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ভূমিদস্যুদের হাত থেকে পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।





















