ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ইন্টারনেট খাতের শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে জোর দাবি


হাফিজুল করিম রুবেল
  • আপডেট সময় : ১০:৩২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • / ২১০৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের ইন্টারনেট সেবাদান খাতে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন-এর সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ।

শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-তে কর্পোরেশন (সিএসপি) আয়োজিত “শ্রমিকের অধিকার, দুর্নীতির অবসান, সম্পৃক্ত আগামীর স্বচ্ছ অভিযান” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মারগুব মোর্শেদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিআরইউ সভাপতি সালেহ আকন্দসহ অনেকে।

সভায় মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা ও “স্মার্ট বাংলাদেশ” গঠনে ইন্টারনেট সেবাদানকারী শ্রমিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাস্তবতা হলো—এই খাতে কর্মরত অধিকাংশ শ্রমিক অনিয়মিত কর্মপরিবেশ, ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, কম মজুরি এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কাজ করছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১০ লাখ শ্রমিক এই খাতে কাজ করলেও তাদের জন্য কোনো সংগঠিত শ্রমিক ইউনিয়ন নেই। বিশেষ করে টাওয়ার রক্ষণাবেক্ষণ, ফাইবার অপটিক স্থাপন ও মেরামতের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম, বীমা সুবিধা ও দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় কাজ করার কারণে অনেক শ্রমিক বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধা পাচ্ছেন না।

এ সময় সংগঠনটির পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়:

  • সকল শ্রমিকের জন্য লিখিত চুক্তি বাধ্যতামূলক করা
  • ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিরাপত্তা সরঞ্জাম (PPE) নিশ্চিত করা
  • দুর্ঘটনা বিমা ও ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা চালু করা
  • ন্যায্য মজুরি ও নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা
  • সাবকন্ট্রাক্টিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা
  • সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ তহবিল গঠন

মহিউদ্দিন আহমেদ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে দ্রুত কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই ও মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা প্রদান সম্ভব নয়। দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করতে হলে এই খাতের শ্রমিকদের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

ইন্টারনেট খাতের শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে জোর দাবি

আপডেট সময় : ১০:৩২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

দেশের ইন্টারনেট সেবাদান খাতে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন-এর সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ।

শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-তে কর্পোরেশন (সিএসপি) আয়োজিত “শ্রমিকের অধিকার, দুর্নীতির অবসান, সম্পৃক্ত আগামীর স্বচ্ছ অভিযান” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মারগুব মোর্শেদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিআরইউ সভাপতি সালেহ আকন্দসহ অনেকে।

সভায় মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা ও “স্মার্ট বাংলাদেশ” গঠনে ইন্টারনেট সেবাদানকারী শ্রমিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাস্তবতা হলো—এই খাতে কর্মরত অধিকাংশ শ্রমিক অনিয়মিত কর্মপরিবেশ, ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, কম মজুরি এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কাজ করছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১০ লাখ শ্রমিক এই খাতে কাজ করলেও তাদের জন্য কোনো সংগঠিত শ্রমিক ইউনিয়ন নেই। বিশেষ করে টাওয়ার রক্ষণাবেক্ষণ, ফাইবার অপটিক স্থাপন ও মেরামতের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম, বীমা সুবিধা ও দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় কাজ করার কারণে অনেক শ্রমিক বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধা পাচ্ছেন না।

এ সময় সংগঠনটির পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়:

  • সকল শ্রমিকের জন্য লিখিত চুক্তি বাধ্যতামূলক করা
  • ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিরাপত্তা সরঞ্জাম (PPE) নিশ্চিত করা
  • দুর্ঘটনা বিমা ও ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা চালু করা
  • ন্যায্য মজুরি ও নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা
  • সাবকন্ট্রাক্টিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা
  • সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ তহবিল গঠন

মহিউদ্দিন আহমেদ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে দ্রুত কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই ও মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা প্রদান সম্ভব নয়। দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করতে হলে এই খাতের শ্রমিকদের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি।