ঢাকা ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ফেনীতে কিস্তির টাকা জোগাড় করতে প্রবাসীর স্ত্রীর গয়না লটু ও হত্যা:নির্মাণ শ্রমিক প্রেফতার


আফতাব মমিন ভূঁঞা, ফেনী
  • আপডেট সময় : ১০:৫২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • / ২০৮০ বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন ঘরের বালুর নিচে চাপা দেওয়া প্রবাসীর স্ত্রী রিনা আক্তার হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই।

এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত নির্মাণ শ্রমিক সাইফুল ইসলামকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।

কিস্তির টাকা জোগাড় করতে কানের দুল লুট করতে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সাইফুল।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ফেনী পিবিআই পুলিশ সুপার উক্য সিংহ।

গ্রেফতার কৃত সাইফুল ইসলাম (২৯) ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী বাজার এলাকার আবুল খায়েরের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি।

পিবিআই জানায়, গত ১২ মে বিকেলে শর্শদি ইউনিয়নের পশ্চিম জোয়ারকাছাড় এলাকায় প্রবাসী মোহাম্মদ মানিকের স্ত্রী রিনা আক্তার (৪৪) নির্মাণাধীন ভবনে পানি দিতে যান। সন্ধ্যার পরও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে নির্মাণাধীন ঘরের মেঝেতে থাকা বালুর স্তুপের নিচে তার মরদেহ খঁজে পান স্বজনরা।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মহরম আলী বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিনা আক্তার তার স্বামীর ক্রয়কৃত জমির পাশের একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। পাশেই তাদের নতুন বাড়ির নির্মাণ কাজ চলছে। ঘটনার দিন বিকেলে ছোট ছেলে রাজু মাকে খুঁজতে গিয়ে নির্মাণাধীন ঘরে কর্মরত রাজমিস্ত্রি সাইফুল ইসলামকে দেখতে পান। মায়ের অবস্থান জানতে চাইলে সাইফুল তাকে ফুফুর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে কাজের টাকাও দিতে বলেছিলেন তিনি। পরে রাজু বিষয়টি তার বোনকে জানালে তারা দুজন নির্মাণাধীন ঘরে গিয়ে বালুর নিচে মায়ের মরদেহ দেখতে পান।

এ ঘটনার পর থেকে নির্মাণশ্রমিক সাইফুল ইসলাম পলাতক ছিলেন। মামলার তদন্তভার পেয়ে পিবিআই ফেনী কার্যালয়ের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে বুধবার (১৩ মে) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজীদ বোস্তামি থানার চৌধুরী নগর আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঋনের কিস্তির টাকার জন্য ঋনদাতা সমিতি/সংস্থার লোকজন বাড়ীতে গিয়ে অপমান অপদস্ত করেন, কিস্তি পরিশোধ না করতে পারায় কয়েকদিন ধরে মানসিক যন্ত্রণায় ভোগ ছিলেন। এই কিস্তির টাকা সংগ্রহের জন্য পরিকল্পিতভাবে রিনা আক্তারকে হত্যা করেন।

ঘটনার দিন বিকেলে রিনা আক্তার নির্মাণাধীন ভবনে পানি দিতে গেলে কানে থাকা দুল লুটের উদ্দেশ্যে সাইফুল তাকে গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ঘরের ভেতরে থাকা বালুর স্তুপের নিচে চাপা দেন।

কানের দুল মোহাম্মদ আলী বাজারে সাড়ে ১৫ টাকা বিক্রি করে চট্টগ্রাম পালিয়ে যান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

ফেনীতে কিস্তির টাকা জোগাড় করতে প্রবাসীর স্ত্রীর গয়না লটু ও হত্যা:নির্মাণ শ্রমিক প্রেফতার

আপডেট সময় : ১০:৫২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন ঘরের বালুর নিচে চাপা দেওয়া প্রবাসীর স্ত্রী রিনা আক্তার হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই।

এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত নির্মাণ শ্রমিক সাইফুল ইসলামকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।

কিস্তির টাকা জোগাড় করতে কানের দুল লুট করতে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সাইফুল।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ফেনী পিবিআই পুলিশ সুপার উক্য সিংহ।

গ্রেফতার কৃত সাইফুল ইসলাম (২৯) ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী বাজার এলাকার আবুল খায়েরের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি।

পিবিআই জানায়, গত ১২ মে বিকেলে শর্শদি ইউনিয়নের পশ্চিম জোয়ারকাছাড় এলাকায় প্রবাসী মোহাম্মদ মানিকের স্ত্রী রিনা আক্তার (৪৪) নির্মাণাধীন ভবনে পানি দিতে যান। সন্ধ্যার পরও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে নির্মাণাধীন ঘরের মেঝেতে থাকা বালুর স্তুপের নিচে তার মরদেহ খঁজে পান স্বজনরা।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মহরম আলী বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিনা আক্তার তার স্বামীর ক্রয়কৃত জমির পাশের একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। পাশেই তাদের নতুন বাড়ির নির্মাণ কাজ চলছে। ঘটনার দিন বিকেলে ছোট ছেলে রাজু মাকে খুঁজতে গিয়ে নির্মাণাধীন ঘরে কর্মরত রাজমিস্ত্রি সাইফুল ইসলামকে দেখতে পান। মায়ের অবস্থান জানতে চাইলে সাইফুল তাকে ফুফুর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে কাজের টাকাও দিতে বলেছিলেন তিনি। পরে রাজু বিষয়টি তার বোনকে জানালে তারা দুজন নির্মাণাধীন ঘরে গিয়ে বালুর নিচে মায়ের মরদেহ দেখতে পান।

এ ঘটনার পর থেকে নির্মাণশ্রমিক সাইফুল ইসলাম পলাতক ছিলেন। মামলার তদন্তভার পেয়ে পিবিআই ফেনী কার্যালয়ের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে বুধবার (১৩ মে) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজীদ বোস্তামি থানার চৌধুরী নগর আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঋনের কিস্তির টাকার জন্য ঋনদাতা সমিতি/সংস্থার লোকজন বাড়ীতে গিয়ে অপমান অপদস্ত করেন, কিস্তি পরিশোধ না করতে পারায় কয়েকদিন ধরে মানসিক যন্ত্রণায় ভোগ ছিলেন। এই কিস্তির টাকা সংগ্রহের জন্য পরিকল্পিতভাবে রিনা আক্তারকে হত্যা করেন।

ঘটনার দিন বিকেলে রিনা আক্তার নির্মাণাধীন ভবনে পানি দিতে গেলে কানে থাকা দুল লুটের উদ্দেশ্যে সাইফুল তাকে গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ঘরের ভেতরে থাকা বালুর স্তুপের নিচে চাপা দেন।

কানের দুল মোহাম্মদ আলী বাজারে সাড়ে ১৫ টাকা বিক্রি করে চট্টগ্রাম পালিয়ে যান।