শিশু রামিসা সহ দেশে ধারাবাহিক
শিশু ও নারী নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সাধারণ নাগরিক সমাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ:
- আপডেট সময় : ১২:১৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
- / ২০৬৮ বার পড়া হয়েছে
আজ ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকাস্থ শেরপুর জেলা সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে সাম্প্রতিক সময়ে শিশু রায়সা সহ দেশে একের পর এক শিশু ও নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সাধারণ নাগরিক সমাজ ও ঢাকাস্থ শেরপুর জেলা সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে শেরপুর জেলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী ও সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ মানববন্ধন কর্মসূচিতে এসব ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা সহ সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দাবি জানান। পাশাপাশি বিগত দিনে সকল ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মামলার জামিন দাদাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
তিনি বলেন, “এ ধরনের বর্বরতা প্রমাণ করে আমাদের সমাজে আইনের শাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের উৎসাহিত করছে।”
সাম্প্রতিক ১৫–২০টি আলোচিত শিশু ও নারী নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড (তথ্যসহ)
নিম্নে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো—
১. শিশু রায়সা হত্যাকাণ্ড (ঢাকা, ২০২৬)
– নিজ এলাকায় নির্যাতনের পর হত্যা; দেশব্যাপী ক্ষোভের সৃষ্টি।
১. নুসরাত জাহান রাফি হত্যা (ফেনী, ২০১৯)
– মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা।
১. সোহাগী জাহান তনু হত্যা (কুমিল্লা, ২০১৬)
– ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ধর্ষণের পর হত্যা; এখনো রহস্যজনক।
১. আয়েশা আক্তার হত্যা (গাজীপুর, ২০২৩)
– অপহরণের পর ধর্ষণ ও হত্যা; স্থানীয়দের বিক্ষোভ।
১. খাদিজা আক্তার উপর হামলা (সিলেট, ২০১৬)
– প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা; নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
১. রিফাত শরীফ হত্যা (বরগুনা, ২০১৯)
– স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা; বিচার ব্যবস্থার আলোচনায় আসে।
১. মাহমুদা খানম মিতু হত্যা (চট্টগ্রাম, ২০১৬)
– সন্তানের সামনে গুলি করে হত্যা; দীর্ঘদিন তদন্ত নিয়ে বিতর্ক।
১. শিশু রাজন হত্যা (সিলেট, ২০১৫)
– চুরির অভিযোগে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা; ভিডিও ভাইরাল হয়।
১. শিশু রাকিব হত্যা (খুলনা, ২০১৫)
– পাম্প দিয়ে শরীরে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা; সারাদেশে ক্ষোভ।
১. ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যা (দিনাজপুর, ১৯৯৫)
– আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ; গণআন্দোলনের সূচনা।
১. বগুড়া কিশোরী ধর্ষণ (২০২০)
– সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে প্রতিবাদ।
১. নোয়াখালী গৃহবধূ নির্যাতন (২০২০)
– বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল; মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ।
১. সুনামগঞ্জ শিশু ধর্ষণ ও হত্যা (২০২২)
– গ্রামের বাড়িতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা।
১. নারায়ণগঞ্জ গৃহকর্মী নির্যাতন (২০২১)
– শিশুগৃহকর্মীকে নির্যাতনে মৃত্যু; শ্রমিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন।
১. পাবনা স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা (২০২২)
– ধর্ষণের শিকার হয়ে সামাজিক চাপে আত্মহত্যা।
১. মাদারীপুর শিশু ধর্ষণ ও হত্যা (২০২৩)
– অপহরণের পর লাশ উদ্ধার; এলাকায় বিক্ষোভ।
১. আদুরি নির্যাতন (ঢাকা, ২০১৩)
– গৃহকর্মী শিশুকে অমানবিক নির্যাতন; জাতীয়ভাবে আলোচিত।
১. বরিশাল কিশোরী হত্যা (২০২২)
– প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় হত্যা।
১. টাঙ্গাইল স্কুলছাত্রী হত্যা (২০২১)
– নিখোঁজের পর লাশ উদ্ধার; ধর্ষণের আলামত।
১. রাজশাহী গৃহবধূ নির্যাতনে মৃত্যু (২০২৩)
– পারিবারিক সহিংসতায় মৃত্যু; নারী নিরাপত্তার সংকট স্পষ্ট।
মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন,
“উপরোক্ত ঘটনাগুলো প্রমাণ করে—শিশু ও নারী আজ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বিচারহীনতা, দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়া অপরাধকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।”
দাবিসমূহ
১. সকল ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত
২. দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা
৩. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল শক্তিশালী করা
৪. ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন
৫. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
৬. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা বৃদ্ধি
৭. সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার
মানববন্ধনের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন, ফরহাদ সরকার ও সংগঠনের উপদেষ্টা মিলন ও প্রমুখ।






















