খেলা দেখা নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপি নেতা বাশার হত্যা: প্রধান আসামি পারভেজ গ্রেফতার
সাগর বাদশা
আপডেট সময় :
১১:৫৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
/
২০৮৬
বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর আদাবর থানাধীন নবোদয় হাউজিং এলাকায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘটিত নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত পারভেজ (৩০)কে কিশোরগঞ্জ জেলা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-২।
র্যাব জানায়, গত ২৯ জুন ২০২৬ জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার মজনু ও শহীদ গ্রুপের বিরোধের সূত্রপাত হয়। এর জেরে ১ জুলাই সন্ধ্যায় দুই পক্ষ সালিশে বসলেও সমাধান না হওয়ায় সংঘর্ষ বাধে।
এ সময় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের ওপর হামলা হলে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত পারভেজ ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাদ্দাম ও বাশারকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল বাশার বাদশাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
ঘটনার পর র্যাব-২ গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান শুরু করে। গত ৪ জুলাই গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত সুমন (২৫) ও শহীদ (৫৯)কে যথাক্রমে জামালপুর সদর ও কিশোরগঞ্জের তাড়াইল এলাকা থেকে র্যাব-২ ও র্যাব-১৪-এর যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের দাবি, গ্রেফতার হওয়া সুমন ও শহীদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে পারভেজই আবুল বাশারকে ছুরিকাঘাত করেন বলে স্বীকার করেছেন। আহত সাদ্দাম হোসেনও একই অভিযোগ করেছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল (৪ জুলাই) রাতে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়ে র্যাব-২ ও র্যাব-১৪-এর যৌথ দল ৫ জুলাই ভোর ৫টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর এলাকা থেকে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি ও প্রধান অভিযুক্ত পারভেজকে গ্রেফতার করে।
এদিকে একই দিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় পৃথক অভিযানে তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত মহরম (৩০)কেও গ্রেফতার করেছে র্যাব-২।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক তথ্য যাচাইয়ে পারভেজের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় বেআইনি সমাবেশ, মারপিট, চুরি ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া মহরমের বিরুদ্ধে ডাকাতি, চোরাই মাল গ্রহণ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা এবং একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।