ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ভুল চিকিৎসায় কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ১০:১২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • / ২০৬৩ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের পর এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

নিহত আয়েশা আফরিন (১৭) সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কৈলাশের ডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী লিটন মাতুব্বরের মেয়ে। তিনি ফরিদপুর সরকারি ইয়াসিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে আয়েশাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত আল জারা প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে অ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত বলে জানান এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার অস্ত্রোপচার করেন।

স্বজনদের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই আয়েশার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রাত ৩টার দিকে তাকে শহরের টেপাখোলা এলাকার রেজোয়ান মোল্লা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের মা আলেয়া বেগম অভিযোগ করেন, সুস্থ অবস্থায় মেয়েকে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন।

স্বজনদের অভিযোগ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের এক চিকিৎসক অস্ত্রোপচারটি করেন। তবে ঘটনার পর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি পরিবারের।

অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করলেও চিকিৎসকের অবহেলার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে স্বজনরা দাবি করেছেন। এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত চিকিৎসক হাসপাতাল ত্যাগ করেন। তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে কারও অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে স্বাস্থ্য বিভাগের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

ভুল চিকিৎসায় কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

আপডেট সময় : ১০:১২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের পর এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

নিহত আয়েশা আফরিন (১৭) সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কৈলাশের ডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী লিটন মাতুব্বরের মেয়ে। তিনি ফরিদপুর সরকারি ইয়াসিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে আয়েশাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত আল জারা প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে অ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত বলে জানান এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার অস্ত্রোপচার করেন।

স্বজনদের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই আয়েশার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রাত ৩টার দিকে তাকে শহরের টেপাখোলা এলাকার রেজোয়ান মোল্লা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের মা আলেয়া বেগম অভিযোগ করেন, সুস্থ অবস্থায় মেয়েকে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন।

স্বজনদের অভিযোগ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের এক চিকিৎসক অস্ত্রোপচারটি করেন। তবে ঘটনার পর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি পরিবারের।

অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করলেও চিকিৎসকের অবহেলার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে স্বজনরা দাবি করেছেন। এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত চিকিৎসক হাসপাতাল ত্যাগ করেন। তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে কারও অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে স্বাস্থ্য বিভাগের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।