শিক্ষার্থীদের মেধা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে ক্রীড়ার বিকল্প নেই: এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
- আপডেট সময় : ১১:৫৭:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
- / ২১০৬ বার পড়া হয়েছে
সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এমপি। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই একজন শিক্ষার্থীর দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হলে নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, খেলাধুলা একজন শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শিক্ষার্থীদের মেধা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে ক্রীড়ার কোনো বিকল্প নেই।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মাদককে দৃঢ়ভাবে না বলতে হবে। নিজেদের সুস্থ, সুশিক্ষিত ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই দেশ উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে যাবে।”

ছাত্রীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বলেন, নারী শিক্ষার প্রসারে অতীতে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা এবং উপবৃত্তি কর্মসূচি চালুর ফলে নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মেয়েদের উচ্চশিক্ষাকে আরও সহজলভ্য করতে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান করা প্রতিটি অভিভাবকের দায়িত্ব। কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য বা অভিযোগ থাকলে তা কখনোই শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ করা উচিত নয়। বরং শিক্ষক কক্ষে বসে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা উচিত। তিনি বলেন, “শিক্ষকরাই আমাদের সন্তানদের দ্বিতীয় অভিভাবক। তাঁদের হাত ধরেই শিক্ষার্থীরা নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও আদর্শের শিক্ষা লাভ করে। তাই শিক্ষক-অভিভাবকের পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে এমপি বলেন, সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলায় আরও বেশি উৎসাহিত হয় এবং দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে পারে।
তিনি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে একটি বিশেষ ঘোষণা দিয়ে বলেন, আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল সন্তোষজনক হলে তিনি পুনরায় বিদ্যালয়ে এসে কৃতী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান করবেন। তাঁর এ ঘোষণায় উপস্থিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি বর্তমান ও সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যালয়কে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দেওয়ান মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন বিপ্লব, কাউন্দিয়া ইউনিয়ন শাখা বিএনপির সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন বাদল, সাধারণ সম্পাদক মো. মোমিনুল ইসলাম মোমিনসহ এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এমদাদুল হক মিলন। তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। উৎসবমুখর পরিবেশে পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘটে।






















