ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ নলতা ডায়াবেটিক হাসপাতালে আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ

৩ কোটি টাকার বেশি আমানত আত্মসাতের অভিযোগ, পরিচালকের কক্ষ ঘেরাও


সেলিম আহম্মেদ
  • আপডেট সময় : ০৩:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২০৭১ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ডায়াবেটিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল ও নলতা ডায়াবেটিস হাসপাতাল কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেডের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সমিতির পরিচালক মিলন হোসেনের বিরুদ্ধে বহুমুখী প্রতারণার অভিযোগ এনে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও পরিচালকের কক্ষ ঘেরাও করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক ও মাঠকর্মীরা। নলতা ডায়াবেটিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের সামনে শত শত নারী-পুরুষ গ্রাহক এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর নলতা ডায়াবেটিক হাসপাতাল কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি সমিতি গঠন করা হয়। পরে ফ্রি চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং ছয় বছরে দ্বিগুণসহ বেশি লাভ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মাঠকর্মীদের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে চার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকার বেশি আমানত সংগ্রহ করা হয়। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও গ্রাহকদের আমানত ও লভ্যাংশ ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। বিক্ষোভকারীরা জানান, বছরের পর বছর টাকা ফেরতের জন্য ঘুরেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। অনেক গ্রাহক আর্থিক সংকটে পড়েছেন এবং চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভে মাঠকর্মী চম্পা সরকার, আমেনা খাতুন, ফিরোজা বেগম, আবেদার আলী খান, আশরাফ হোসেন ও প্রভাতী রানীসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, গ্রাহকরা মাঠকর্মীদের ওপর আস্থা রেখে তাদের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়েছেন। বর্তমানে টাকা ফেরত না পাওয়ায় গ্রাহকদের চাপ ও ক্ষোভের মুখে পড়ছেন মাঠকর্মীরা। অনেক সময় গ্রাহকরা বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরতের জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। এ অবস্থায় দ্রুত আমানতের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করার দাবি জানান

তারা।বিক্ষোভ চলাকালে হাসপাতালের পরিচালক মিলন হোসেন সাংবাদিকদের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তিনি নিজ কার্যালয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ গ্রাহক ও মাঠকর্মীরা টাকা ফেরতের দাবিতে তার কক্ষ ঘেরাও করে রাখেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এ পরিস্থিতি চলতে থাকে। এ সময় পরিচালক মিলন

হোসেন মাঠকর্মীদের মাধ্যমে গ্রাহকদের প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা করে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও গ্রাহকরা তা মেনে নেননি। তারা দ্রুত আমানতের টাকা ফেরতের দাবি জানান। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, প্রায় তিন মাস আগে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আমানতের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা না হলে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা। এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক মিলন হোসেন বলেন, আমার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যবসা করে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। কিন্তু তারা তা মানছেন না। পরিস্থিতি সমাধানে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ নলতা ডায়াবেটিক হাসপাতালে আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৩:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ডায়াবেটিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল ও নলতা ডায়াবেটিস হাসপাতাল কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেডের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সমিতির পরিচালক মিলন হোসেনের বিরুদ্ধে বহুমুখী প্রতারণার অভিযোগ এনে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও পরিচালকের কক্ষ ঘেরাও করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক ও মাঠকর্মীরা। নলতা ডায়াবেটিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের সামনে শত শত নারী-পুরুষ গ্রাহক এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর নলতা ডায়াবেটিক হাসপাতাল কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি সমিতি গঠন করা হয়। পরে ফ্রি চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং ছয় বছরে দ্বিগুণসহ বেশি লাভ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মাঠকর্মীদের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে চার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকার বেশি আমানত সংগ্রহ করা হয়। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও গ্রাহকদের আমানত ও লভ্যাংশ ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। বিক্ষোভকারীরা জানান, বছরের পর বছর টাকা ফেরতের জন্য ঘুরেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। অনেক গ্রাহক আর্থিক সংকটে পড়েছেন এবং চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভে মাঠকর্মী চম্পা সরকার, আমেনা খাতুন, ফিরোজা বেগম, আবেদার আলী খান, আশরাফ হোসেন ও প্রভাতী রানীসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, গ্রাহকরা মাঠকর্মীদের ওপর আস্থা রেখে তাদের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়েছেন। বর্তমানে টাকা ফেরত না পাওয়ায় গ্রাহকদের চাপ ও ক্ষোভের মুখে পড়ছেন মাঠকর্মীরা। অনেক সময় গ্রাহকরা বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরতের জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। এ অবস্থায় দ্রুত আমানতের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করার দাবি জানান

তারা।বিক্ষোভ চলাকালে হাসপাতালের পরিচালক মিলন হোসেন সাংবাদিকদের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তিনি নিজ কার্যালয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ গ্রাহক ও মাঠকর্মীরা টাকা ফেরতের দাবিতে তার কক্ষ ঘেরাও করে রাখেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এ পরিস্থিতি চলতে থাকে। এ সময় পরিচালক মিলন

হোসেন মাঠকর্মীদের মাধ্যমে গ্রাহকদের প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা করে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও গ্রাহকরা তা মেনে নেননি। তারা দ্রুত আমানতের টাকা ফেরতের দাবি জানান। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, প্রায় তিন মাস আগে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আমানতের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা না হলে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা। এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক মিলন হোসেন বলেন, আমার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যবসা করে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। কিন্তু তারা তা মানছেন না। পরিস্থিতি সমাধানে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।