ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক:

তারালী ইউনিয়নের জাফরপুরে ৯ শতক জমি নিয়ে বিরোধ, হুমকির অভিযোগ


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০১:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২০৭৪ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের জাফরপুর গ্রামে ৯ শতক জমির মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে পরস্পরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাফরপুর মৌজার জে.এল. নং-১৯২, দাগ নং-৪-এর ৯ শতক জমি নিয়ে কুয়েত প্রবাসী আবু হাসান ও মনির হোসেন, পিতা—ফজর আলী সরদার এবং সৌদি প্রবাসী ওসমান গনি, পিতা—আবুল হোসেন বিশ্বাসের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।

কুয়েত প্রবাসী মনির হোসেনের দাবি, জাফরপুর মৌজার জে.এল. নং-১৯২, দাগ নং-৪-এর ৯ শতক জমি তারা মৃত আরশাদ বিশ্বাসের ছেলে মিয়ারাজের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। জমি ক্রয়ের পর থেকে তারা সেটি ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি করেন তিনি।

মনির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আবুল হোসেন ওই ৯ শতক জমিসহ ৪ নম্বর দাগে মোট ২২ শতক জমির দাবি করছেন। এ জন্য জাল দলিল তৈরির অভিযোগও করেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মনির।

তিনি বলেন, “আমরা দুই ভাই প্রবাসে থাকি। জমি নিয়ে বিরোধের কারণে আমাদের পরিবারও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আমরা বিষয়টির সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই।”
অপরদিকে আবুল হোসেনের দাবি, বিরোধপূর্ণ ৯ শতক জমি ৪ নম্বর দাগের মধ্যে নয়; বরং জমিটি অন্য একটি দাগের অন্তর্ভুক্ত। তার অভিযোগ, প্রতিপক্ষ ভুল দাগ উল্লেখ করে তাদের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, “বিক্রিত জমিটি মাদ্দার বিশ্বাসের নামে রেকর্ড হয়েছিল। পরবর্তীতে তার ছেলে আবুল বিশ্বাস নামজারি (মিউটেশন) করেন। তবে প্রকৃত জমিটি মনির ও হাসানের ক্রয়কৃত জমি বলে জানা যায়। জমি নিয়ে দেওয়ানি মামলা হওয়ার পর হাসান ও মনিরের পক্ষে একতরফা রায়ও হয়েছে।”

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে সমাধানের জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার বৈঠক ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে উভয় পক্ষ নিজ নিজ দাবিতে অনড় থাকায় এখনো বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের মতে, বিরোধপূর্ণ জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল নির্ধারণে উভয় পক্ষের দলিলপত্র, খতিয়ান, রেকর্ড, নামজারি এবং আদালতের নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হলে এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদক:

তারালী ইউনিয়নের জাফরপুরে ৯ শতক জমি নিয়ে বিরোধ, হুমকির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০১:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের জাফরপুর গ্রামে ৯ শতক জমির মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে পরস্পরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাফরপুর মৌজার জে.এল. নং-১৯২, দাগ নং-৪-এর ৯ শতক জমি নিয়ে কুয়েত প্রবাসী আবু হাসান ও মনির হোসেন, পিতা—ফজর আলী সরদার এবং সৌদি প্রবাসী ওসমান গনি, পিতা—আবুল হোসেন বিশ্বাসের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।

কুয়েত প্রবাসী মনির হোসেনের দাবি, জাফরপুর মৌজার জে.এল. নং-১৯২, দাগ নং-৪-এর ৯ শতক জমি তারা মৃত আরশাদ বিশ্বাসের ছেলে মিয়ারাজের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। জমি ক্রয়ের পর থেকে তারা সেটি ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি করেন তিনি।

মনির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আবুল হোসেন ওই ৯ শতক জমিসহ ৪ নম্বর দাগে মোট ২২ শতক জমির দাবি করছেন। এ জন্য জাল দলিল তৈরির অভিযোগও করেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মনির।

তিনি বলেন, “আমরা দুই ভাই প্রবাসে থাকি। জমি নিয়ে বিরোধের কারণে আমাদের পরিবারও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আমরা বিষয়টির সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই।”
অপরদিকে আবুল হোসেনের দাবি, বিরোধপূর্ণ ৯ শতক জমি ৪ নম্বর দাগের মধ্যে নয়; বরং জমিটি অন্য একটি দাগের অন্তর্ভুক্ত। তার অভিযোগ, প্রতিপক্ষ ভুল দাগ উল্লেখ করে তাদের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, “বিক্রিত জমিটি মাদ্দার বিশ্বাসের নামে রেকর্ড হয়েছিল। পরবর্তীতে তার ছেলে আবুল বিশ্বাস নামজারি (মিউটেশন) করেন। তবে প্রকৃত জমিটি মনির ও হাসানের ক্রয়কৃত জমি বলে জানা যায়। জমি নিয়ে দেওয়ানি মামলা হওয়ার পর হাসান ও মনিরের পক্ষে একতরফা রায়ও হয়েছে।”

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে সমাধানের জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার বৈঠক ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে উভয় পক্ষ নিজ নিজ দাবিতে অনড় থাকায় এখনো বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের মতে, বিরোধপূর্ণ জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল নির্ধারণে উভয় পক্ষের দলিলপত্র, খতিয়ান, রেকর্ড, নামজারি এবং আদালতের নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হলে এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকবে।