ছেলেকে নিয়ে রেললাইনে ঝাঁপ বাবার, ট্রেনের নিচে পড়েও অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন বাবা-ছেলে
- আপডেট সময় : ০১:৩৭:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
- / ২০৬১ বার পড়া হয়েছে
পারিবারিক কলহের জের ধরে নরসিংদীতে চার বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে আন্তনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়েছেন এক যুবক। ট্রেনের ধাক্কায় বাবা-ছেলে রেললাইনের মাঝে পড়ে যান এবং ট্রেনটি তাঁদের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে দুজনই প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নরসিংদী শহরের আরশীনগর রেলক্রসিংয়ের কাছে বীরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত বাবা আল-আমিন (২৭) নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর চার বছর বয়সী ছেলে আরিয়ানকে নরসিংদীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আল-আমিন নরসিংদী শহরের পূর্ব ব্রাহ্মন্দী এলাকার হাসেম মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে আল-আমিন তাঁর ছেলে আরিয়ানকে নিয়ে বীরপুর মসজিদের সামনে অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী আন্তনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি শেষে পুনরায় চলতে শুরু করে। ট্রেনটি বীরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় অতিক্রম করার সময় ছেলেকে নিয়ে রেললাইনে ঝাঁপ দেন আল-আমিন।
এ সময় ট্রেনের ধাক্কায় বাবা-ছেলে দুজনই রেললাইনের মাঝখানে ছিটকে পড়েন। পরে ট্রেনটি তাঁদের ওপর দিয়ে চলে গেলেও সৌভাগ্যক্রমে তাঁরা কাটা পড়েননি। এতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান দুজন।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
আল-আমিনের বড় ভাই আবদুল কাদের জানান, নরসিংদী সদর হাসপাতাল থেকে আরিয়ানকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায় ১৬টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। আল-আমিন বর্তমানে নরসিংদী সদর হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মনির হোসেন বলেন, বাবা-ছেলে দুজনই গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, “এ ঘটনায় বাবা-ছেলে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। কপাল ভালো, ট্রেনটি তাঁদের ওপর দিয়ে গেলেও কেউ কাটা পড়েননি। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।”






















