ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
গাড়িচালক ওবায়দুর

অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর প্রলোভন দেখান গাজী নজরুল


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৮:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২০৭০ বার পড়া হয়েছে

অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর প্রলোভন দেখান গাজী নজরুল

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর তাকে প্রতিবাদ না করার জন্য অর্থের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। তিনি দাবি করেন, পরে তাকে ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজের সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি পাঁচ বছর সঙ্গে থাকলে জীবন বদলে যাবে বলেও প্রলোভন দেখানো হয়।

ওবায়দুর বলেন, গত ১৮ জুন প্রথম তিনি ওই তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। পরদিন তরুণীর সঙ্গে কথা বললে সে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে। পরে ২০ জুন তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে এমপি হোস্টেলে গিয়ে গাজী নজরুলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। তখন গাজী নজরুলও সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি করেন ওবায়দুর।

তিনি বলেন, ওই সময় গাজী নজরুল তরুণীর মাধ্যমে আমাকে টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেয়ার কথা বলেন। তবে আমি টাকা নেইনি।

তরুণীর নিরাপত্তা ও অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করে পরে গাড়িচালকের কাজ নেন বলে জানান তিনি।

ওবায়দুর দাবি করেন, ৬ থেকে ১৩ জুলাই তিনি গাজী নজরুলের সঙ্গে ছিলেন এবং তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করেন। ২২ জুন মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশনের একটি কফি শপ এবং ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলে জানান ওবায়দুর।

তিনি আরও দাবি করেন, ১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্টহাউসে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীর অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরে ওই রাতে তরুণীকে নিয়ে ঢাকার বাইরে চলে যান তিনি। পরদিন ঢাকায় ফেরার পথে গাজী নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার কথামতো খিলক্ষেত এলাকায় তরুণীর বাবা ও আমিনুর নামের একজনের সঙ্গে দেখা করেন।

ওবায়দুরের অভিযোগ, ওই রাতে বাসায় ফেরার পর তরুণীর বাবা ও আমিনুর তার ওপর হামলা চালান এবং গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।

এ ঘটনায় ২১ জুলাই পল্লবী থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন বলে জানান ওবায়দুর। তার দাবি, পরে মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও পরে আদালত তাদের জামিন দেন।

এর মধ্যে ২ আগস্ট ওবায়দুরের বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে মামলা করেন তরুণীর মা ও গাজী নজরুলের বোন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন।

ওবায়দুরের দাবি, মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। তার মা ও পরিবারের সদস্যদেরও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকতে হচ্ছে। এ ঘটনায় ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

এর আগে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওই তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে আলোচনা তৈরি হলে গাজী নজরুল দাবি করেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। একই ঘটনায় ওবায়দুরের বিরুদ্ধে টাকা হাতিয়ে নেয়া ও ভিডিও ফাঁসের অভিযোগও করেছিলেন তিনি।

তবে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের বক্তব্যের পক্ষে তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

গাড়িচালক ওবায়দুর

অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর প্রলোভন দেখান গাজী নজরুল

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর তাকে প্রতিবাদ না করার জন্য অর্থের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। তিনি দাবি করেন, পরে তাকে ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজের সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি পাঁচ বছর সঙ্গে থাকলে জীবন বদলে যাবে বলেও প্রলোভন দেখানো হয়।

ওবায়দুর বলেন, গত ১৮ জুন প্রথম তিনি ওই তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। পরদিন তরুণীর সঙ্গে কথা বললে সে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে। পরে ২০ জুন তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে এমপি হোস্টেলে গিয়ে গাজী নজরুলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। তখন গাজী নজরুলও সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি করেন ওবায়দুর।

তিনি বলেন, ওই সময় গাজী নজরুল তরুণীর মাধ্যমে আমাকে টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেয়ার কথা বলেন। তবে আমি টাকা নেইনি।

তরুণীর নিরাপত্তা ও অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করে পরে গাড়িচালকের কাজ নেন বলে জানান তিনি।

ওবায়দুর দাবি করেন, ৬ থেকে ১৩ জুলাই তিনি গাজী নজরুলের সঙ্গে ছিলেন এবং তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করেন। ২২ জুন মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশনের একটি কফি শপ এবং ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলে জানান ওবায়দুর।

তিনি আরও দাবি করেন, ১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্টহাউসে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীর অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরে ওই রাতে তরুণীকে নিয়ে ঢাকার বাইরে চলে যান তিনি। পরদিন ঢাকায় ফেরার পথে গাজী নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার কথামতো খিলক্ষেত এলাকায় তরুণীর বাবা ও আমিনুর নামের একজনের সঙ্গে দেখা করেন।

ওবায়দুরের অভিযোগ, ওই রাতে বাসায় ফেরার পর তরুণীর বাবা ও আমিনুর তার ওপর হামলা চালান এবং গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।

এ ঘটনায় ২১ জুলাই পল্লবী থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন বলে জানান ওবায়দুর। তার দাবি, পরে মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও পরে আদালত তাদের জামিন দেন।

এর মধ্যে ২ আগস্ট ওবায়দুরের বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে মামলা করেন তরুণীর মা ও গাজী নজরুলের বোন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন।

ওবায়দুরের দাবি, মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। তার মা ও পরিবারের সদস্যদেরও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকতে হচ্ছে। এ ঘটনায় ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

এর আগে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওই তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে আলোচনা তৈরি হলে গাজী নজরুল দাবি করেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। একই ঘটনায় ওবায়দুরের বিরুদ্ধে টাকা হাতিয়ে নেয়া ও ভিডিও ফাঁসের অভিযোগও করেছিলেন তিনি।

তবে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের বক্তব্যের পক্ষে তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানান।