ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

মাসুদ হত্যার দুই বছর: মামলা আছে, তদন্ত আছে—গ্রেপ্তার নেই!


স্টাফ রিপোর্টারঃ মোঃ মাসুদ রানা
  • আপডেট সময় : ০৪:৫০:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২০৭৪ বার পড়া হয়েছে

একজন বাবা ওষুধ কিনতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। ঘরে তখন চার দিনের নবজাতক কন্যা। কিন্তু সেই বাবা আর ফিরে আসেননি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মাসুদকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে মারধরের পর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।
আজ সেই হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ। মামলা হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব এক সংস্থা থেকে আরেক সংস্থায় গেছে। থানা পুলিশ, ডিবি পেরিয়ে তদন্ত এখন পিবিআইয়ের হাতে। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—হত্যার দুই বছর পরও গ্রেপ্তার নেই একজনও!
২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিনোদপুর বাজার থেকে একদল ব্যক্তি মাসুদকে তুলে নিয়ে যায় বলে মামলার তথ্য ও পরিবারের বক্তব্যে জানা যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বোয়ালিয়া থানায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চার দিন পর ১১ সেপ্টেম্বর মাসুদের বড় ভাই মো. বেহেস্তি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন।
কিন্তু দুই বছর পরও মামলার তদন্তের দৃশ্যমান ফলাফল কোথায়—এই প্রশ্নই এখন সামনে।
২০২৫ সালের জুনে মামলার তদন্তভার নেয় পিবিআই। সংস্থাটির রাজশাহী পুলিশ সুপার আবদুল জলিল জানিয়েছেন, তার জানা মতে এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তার বক্তব্য, ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ থাকায় শুধু ভিডিও দেখে কাউকে আসামি করা সম্ভব নয়; তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে নিহতের পরিবার বলছে, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তারা কার্যত অন্ধকারে। মাসুদের স্ত্রী বিউটি আরা বেগম জানান, হত্যার পর তদন্তকারীরা তার সঙ্গে মাত্র দুবার যোগাযোগ করেছেন। সর্বশেষ যোগাযোগ হয় ২০২৫ সালে। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে দাবি তার।
দুই বছর ধরে তদন্ত—তবু গ্রেপ্তার শূন্য!
মাসুদের হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের স্বজন হারানোর ঘটনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক দীর্ঘ সংগ্রামের গল্পও।
২০১৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলায় তার ডান পা গোড়ালির নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এক হাতের টেনডনও কেটে দেওয়া হয়। কৃত্রিম পা নিয়ে জীবন চালিয়ে যাওয়া মাসুদ দীর্ঘদিন বেকার ছিলেন। ২০২২ সালে সরকারি চাকরির জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন করেন তিনি। পরে সুপারিশের ভিত্তিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে স্টোর কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি পান।
কিন্তু চাকরি পাওয়ার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ফের হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারান তিনি।
সবচেয়ে নির্মম বাস্তবতা—মৃত্যুর মাত্র পাঁচ দিন আগে তিনি কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছিলেন।
আজ সেই সন্তান বড় হচ্ছে বাবাকে ছাড়াই। আর পরিবার অপেক্ষা করছে একটি প্রশ্নের উত্তরের জন্য—
কারা হত্যা করল আবদুল্লাহ আল মাসুদকে?
দুই বছরেও যদি একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা না যায়, তাহলে তদন্তের পরবর্তী ধাপ কী? হামলাকারীদের শনাক্ত করতে আর কত সময় প্রয়োজন? আর কবে আদালতের সামনে দাঁড়াবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা?
তদন্ত চলছে—এটাই পুলিশের বক্তব্য। কিন্তু দুই বছর পরও বিচারপ্রত্যাশী পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: এই অপেক্ষার শেষ কোথায়?

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

মাসুদ হত্যার দুই বছর: মামলা আছে, তদন্ত আছে—গ্রেপ্তার নেই!

আপডেট সময় : ০৪:৫০:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একজন বাবা ওষুধ কিনতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। ঘরে তখন চার দিনের নবজাতক কন্যা। কিন্তু সেই বাবা আর ফিরে আসেননি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মাসুদকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে মারধরের পর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।
আজ সেই হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ। মামলা হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব এক সংস্থা থেকে আরেক সংস্থায় গেছে। থানা পুলিশ, ডিবি পেরিয়ে তদন্ত এখন পিবিআইয়ের হাতে। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—হত্যার দুই বছর পরও গ্রেপ্তার নেই একজনও!
২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিনোদপুর বাজার থেকে একদল ব্যক্তি মাসুদকে তুলে নিয়ে যায় বলে মামলার তথ্য ও পরিবারের বক্তব্যে জানা যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বোয়ালিয়া থানায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চার দিন পর ১১ সেপ্টেম্বর মাসুদের বড় ভাই মো. বেহেস্তি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন।
কিন্তু দুই বছর পরও মামলার তদন্তের দৃশ্যমান ফলাফল কোথায়—এই প্রশ্নই এখন সামনে।
২০২৫ সালের জুনে মামলার তদন্তভার নেয় পিবিআই। সংস্থাটির রাজশাহী পুলিশ সুপার আবদুল জলিল জানিয়েছেন, তার জানা মতে এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তার বক্তব্য, ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ থাকায় শুধু ভিডিও দেখে কাউকে আসামি করা সম্ভব নয়; তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে নিহতের পরিবার বলছে, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তারা কার্যত অন্ধকারে। মাসুদের স্ত্রী বিউটি আরা বেগম জানান, হত্যার পর তদন্তকারীরা তার সঙ্গে মাত্র দুবার যোগাযোগ করেছেন। সর্বশেষ যোগাযোগ হয় ২০২৫ সালে। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে দাবি তার।
দুই বছর ধরে তদন্ত—তবু গ্রেপ্তার শূন্য!
মাসুদের হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের স্বজন হারানোর ঘটনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক দীর্ঘ সংগ্রামের গল্পও।
২০১৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলায় তার ডান পা গোড়ালির নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এক হাতের টেনডনও কেটে দেওয়া হয়। কৃত্রিম পা নিয়ে জীবন চালিয়ে যাওয়া মাসুদ দীর্ঘদিন বেকার ছিলেন। ২০২২ সালে সরকারি চাকরির জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন করেন তিনি। পরে সুপারিশের ভিত্তিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে স্টোর কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি পান।
কিন্তু চাকরি পাওয়ার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ফের হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারান তিনি।
সবচেয়ে নির্মম বাস্তবতা—মৃত্যুর মাত্র পাঁচ দিন আগে তিনি কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছিলেন।
আজ সেই সন্তান বড় হচ্ছে বাবাকে ছাড়াই। আর পরিবার অপেক্ষা করছে একটি প্রশ্নের উত্তরের জন্য—
কারা হত্যা করল আবদুল্লাহ আল মাসুদকে?
দুই বছরেও যদি একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা না যায়, তাহলে তদন্তের পরবর্তী ধাপ কী? হামলাকারীদের শনাক্ত করতে আর কত সময় প্রয়োজন? আর কবে আদালতের সামনে দাঁড়াবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা?
তদন্ত চলছে—এটাই পুলিশের বক্তব্য। কিন্তু দুই বছর পরও বিচারপ্রত্যাশী পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: এই অপেক্ষার শেষ কোথায়?