ঢাকা ০৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সাতক্ষীরায় বিএনপির চার প্রার্থীর পরাজয়ে দলের নেতারাই দায়ী: আইনমন্ত্রী


আব্দুর রাজ্জাক, জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা :
  • আপডেট সময় : ১০:৪৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২০৬০ বার পড়া হয়েছে

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীদের পরাজয়ের পেছনে দলের কিছু নেতা-কর্মীর ভূমিকা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি অভিযোগ করেন, দিনে বিএনপির রাজনীতি করলেও রাতে দলের প্রার্থীদের পরাজিত করতে গুপ্ত ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা পরাজিত হন। চারটি আসনেই জয় পান জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।
সভায় নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের পরাজয়ের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, চারজন সংসদ সদস্যকে হারানোর পেছনে দলের কিছু নেতা-কর্মী ‘মুখ্য ভূমিকা’ পালন করেছেন। তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চারজন এমপিকে হারানোর জন্য আপনারা ষড়যন্ত্র করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘চারজন এমপিকে হারানোর জন্য দিনে বিএনপি, রাতে গুপ্ত ষড়যন্ত্র করেছেন। আমার কাছে সবার আমলনামা আছে।’ প্রয়োজন হলে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একান্তে কথা বলার কথাও জানান তিনি।
দলের অভ্যন্তরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দলীয় সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় দল একজনকে মনোনয়ন দিলে দলের সব নেতা-কর্মীকে তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘদিনের অর্জন নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতি খুব নিষ্ঠুর জায়গা।’ দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কাউকে দল সমর্থন করবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় নেতা-কর্মীদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেকেই বক্তব্যে বারবার ‘আমি’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন—‘আমি সব করেছি, আমিই ত্যাগ করেছি, আমি নির্যাতিত হয়েছি’। অথচ বিএনপির মৌলিক আদর্শের জায়গা হলো ‘আমরা’।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বক্তব্য ছিল—‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়।’ তাই দলের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের ‘আমিত্বকে আমরাতে রূপান্তরিত’ করতে হবে। এটি করতে পারলে দলের অভ্যন্তরীণ সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো নেতা-কর্মী যতই ত্যাগী বা দলের প্রতি নিবেদিত হোন না কেন, এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাঁকে আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে।
মতবিনিময় সভায় সাতক্ষীরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেন, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

সাতক্ষীরায় বিএনপির চার প্রার্থীর পরাজয়ে দলের নেতারাই দায়ী: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১০:৪৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীদের পরাজয়ের পেছনে দলের কিছু নেতা-কর্মীর ভূমিকা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি অভিযোগ করেন, দিনে বিএনপির রাজনীতি করলেও রাতে দলের প্রার্থীদের পরাজিত করতে গুপ্ত ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা পরাজিত হন। চারটি আসনেই জয় পান জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।
সভায় নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের পরাজয়ের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, চারজন সংসদ সদস্যকে হারানোর পেছনে দলের কিছু নেতা-কর্মী ‘মুখ্য ভূমিকা’ পালন করেছেন। তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চারজন এমপিকে হারানোর জন্য আপনারা ষড়যন্ত্র করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘চারজন এমপিকে হারানোর জন্য দিনে বিএনপি, রাতে গুপ্ত ষড়যন্ত্র করেছেন। আমার কাছে সবার আমলনামা আছে।’ প্রয়োজন হলে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একান্তে কথা বলার কথাও জানান তিনি।
দলের অভ্যন্তরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দলীয় সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় দল একজনকে মনোনয়ন দিলে দলের সব নেতা-কর্মীকে তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘদিনের অর্জন নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতি খুব নিষ্ঠুর জায়গা।’ দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কাউকে দল সমর্থন করবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় নেতা-কর্মীদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেকেই বক্তব্যে বারবার ‘আমি’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন—‘আমি সব করেছি, আমিই ত্যাগ করেছি, আমি নির্যাতিত হয়েছি’। অথচ বিএনপির মৌলিক আদর্শের জায়গা হলো ‘আমরা’।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বক্তব্য ছিল—‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়।’ তাই দলের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের ‘আমিত্বকে আমরাতে রূপান্তরিত’ করতে হবে। এটি করতে পারলে দলের অভ্যন্তরীণ সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো নেতা-কর্মী যতই ত্যাগী বা দলের প্রতি নিবেদিত হোন না কেন, এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাঁকে আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে।
মতবিনিময় সভায় সাতক্ষীরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেন, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।