শ্যামনগর বিএনপির ১১ ইউনিয়ন কমিটিতে আ.লীগ-জাপার ৪৭ নেতাকর্মীর স্থান পাওয়ার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৭:৫০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২০৫৪ বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সদ্য ঘোষিত ১১টি ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে তৃণমূলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এসব কমিটিতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের অন্তত ৪৭ জন নেতাকর্মীকে বিভিন্ন পদে স্থান দেওয়া হয়েছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে শ্যামনগর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, জেলা বিএনপির একজন যুগ্ম আহ্বায়ক এবং উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও নির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা। কয়েকটি ইউনিয়নে কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও হয়েছে। এর মধ্যে ২ নম্বর কাশিমাড়ী ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির প্রবীণ নেতাদের অভিযোগ, বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে যারা দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং নতুন কমিটিতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
১০ নম্বর আটুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে মো. আসাদুজ্জামান মিঠুকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর লিখিত অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলেন। ওই অঙ্গীকারনামায় ভবিষ্যতে বিএনপি বা অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না থাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
এ ছাড়া কমিটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
৫ নম্বর কৈখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে কয়েকজনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় নেতারা।
অভিযোগ রয়েছে, আমিনুর রহমান মেম্বার, আব্দুর বারি, আব্দুল আলিম, আব্দুর রহিম মিলন, আরব আলী, মোসা. নার্গিস ও সুশান্ত মণ্ডলসহ কয়েকজন অতীতে আওয়ামী লীগ বা যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
১১ নম্বর পদ্মপুকুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীরা বলেন, আব্দুল মালেক বাবলু, আব্দুর সবুর সানা, শফিউল ইসলাম, আহসান উল্লাহ সরদার, এস এম সাইফুল্লাহ, আব্দুল্লাহ গাজী, তারেক আজিজ, প্রদীপ কুমার মণ্ডল, রণজিৎ কুমার মণ্ডল ও অচিন্ত্য কুমার মণ্ডলসহ কয়েকজনের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
২ নম্বর কাশিমাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, আক্তার ফারুক মেম্বার, হামিদুল কবির বাবু, শহীদ সরদার, আব্দুল মান্নান ও নুরুল আমিন তরফদারসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া অমিয় কুমার রায় ও সুপদ কুমারের বিরুদ্ধে যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জি এম রাশেদুল ইসলামকে নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি অতীতে শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের একটি পদে ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সোলাইমান কবির ও সদস্য সচিব আশিক ইলাইহি মুন্নার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, দল পুনর্গঠনের সময় অন্য দল বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।




























