আসামী ধরতে ব্যর্থ গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ,
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা!
- আপডেট সময় : ১২:১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২০৪৪ বার পড়া হয়েছে
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ‘বুক ফুলিয়ে’ প্রকাশ্যে ঘুরছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার এজহারভুক্ত আসামি হলেও তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। মিটিং, মিছিল শোডাউনও দিচ্ছেন এলাকায়। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদও পরিচালনা করছেন। এতে অন্যান্য সিনিয়র রাজনীতিবিদরা চরম ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন পুলিশের সহযোগিতায় প্রকাশ্যে মামলার এজহারভুক্ত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আসামীরা আরামে থাকছেন, খাচ্ছেন, ঘুরছেন, ঘুমাচ্ছেন,! নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দলে ভিড়ছেন। ফলে ধরাছোঁয়ার বাইরেও রয়ে যাচ্ছেন মামলার এজহারভুক্ত আসামি। এসব ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরিকল্পিতভাবে যোগসাজসে বেআইনী জনতায় দলবদ্ধ হইয়া দাঙ্গা করিবার উদ্দেশ্যে পথরোধ, অনধীকার প্রবেশ করতঃ হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করিয়া সাধারন ও গুরুতর আহত জখম, চুরি, ক্ষতিসাধন, অগ্নীসংযোগ, মানহানি, ভয়ভীতি ও হুকুমদান এবং ভীতি প্রদর্শনের জন্য আসামীদের হেফাজতে থাকা ককটেল বিষ্ফোরন ঘটনার অপরাধসহ ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বৈষম্যসহ গোবিন্দগঞ্জ থানায় দায়ের হয়েছে একাধিক দলীয় মামলা । এসব মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে নাম মাত্র কিছু আসামী, তবে মামলার এজাহার ভুক্ত আসামি সংখ্যা প্রায় ৪৭৬ জন, অজ্ঞাত নামা প্রায় ১০৩০ জন। অভিযোগ উঠেছে, মামলার এজহারভুক্ত আসামিরা প্রক্যাশ্যে ঘুরলেও পুলিশ তাদের ধরছে না। আসামিরা ম্যানেজ করেছেন পুলিশের কর্মকর্তাদের। আসামির তথ্য দেওয়া হলে অভিযানে যাওয়ার আগেই আসামীকে টেলিফোন করে সরে যেতে বলে পুলিশ।
আসামীরা এখনো এলাকায় ‘বুক ফুলিয়ে চলছেন। ইউনিয়ন পরিষদও চালাচ্ছেন। সরকারি বরাদ্দের ত্রাণ তালিকা করে আঃ লীগের নেতাকর্মীদের দিচ্ছেন, বিভিন্ন কাজের ছবিও সোসাল মিডিয়ায় আপলোড করছেন আবার বিএনপির নেতা কর্মীদের হুমকি দিচ্ছেন, রাস্তায় অস্র্র ঠেকিয়ে ছিনতাই করছেন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। তবে রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না, অথচ নাম মাত্র অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় শীর্ষপদধারী এজাহার নামীয় আসামী শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার না করে নাম মাত্র তৃনমূল নেতা কর্মী ও সমর্থকদের গ্রেফতার করছেন গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ। দলীয় শীর্ষ পদধারীদের নামে শুধু এই গোবিন্দগঞ্জ থানাতেই নয় জেলার অন্যান্য থানায় রয়েছে একাধিক মামলা তারপরও গ্রেফতার হচ্ছে না তারা ।
মামলার বাদীগন জানান, মামলার তদন্তকারী অফিসারকে আসামী ধরতে বললে তিনি বলেন আমাদেরকে আসামী ধরে পুলিশকে খবর দিতে, আসামীদের কে দেখিয়ে দিলে বা লোকেশন দিলেও গড়িমসি করে আসামী ধরেন না। আসামী না ধরে তাদেরকে সহযোগিতা করেন। প্রশাসন আওয়ামী লীগের দোসরদের সহিত গোপন সম্পর্ক বজায় রেখে তাদের হাতে হাত মিলিয়ে তাদের দোসরদের মারফতে আওয়ামী লীগের দলীয় শীর্ষপদধারী আসামীদের সহিত বিপুল অংকের আতাতের বিনিময়ে এজাহার নামীয় আসামীদের গ্রেফতার না করে প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়ানোর সুযোগ করে দিচ্ছেন। অন্যান্য জায়গায় দলীয় শীর্ষ আসামীরা ধরা পড়েছে কিন্তু এখনো গোবিন্দগঞ্জে আসামীদের ধরতে পারলো না অথচ আসামীরা নিজ এলাকায় ও পাশ্ববর্তী জেলাগুলোতেই অবস্থান করছে।
তারা আরও বলেন, ‘পুলিশ তো কোনো কাজই করছে না। প্রশাসন তো আওয়ামী লীগের সাথে লিয়াজোঁ করে চলছে এবং গভীর রাতের অন্ধকারে দালালের মাধ্যমে চলে থানায় বানিজ্য, অবৈধ ফেনসিডিল, মাদক, হ্যাকারের সাথেও থানা পুলিশ জড়িত। ঠিক ৫ আগস্ট এর আগে যে অবস্থা ছিল এখনো তাই। মাদকের লোকজন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং পুলিশের সাথে তাদের যোগাযোগ, মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত জেলখাটা আসামী পুলিশের সাথে লিয়াজোর মাধ্যমে সারারাত করে তদবির মামলা বানিজ্য। বৈসম্য মামলার আসামী ধরা নিষেধাঙ্গার পূর্ব পর্যন্ত আসামীগনদের ধরার তেমন কোন তৎপরতা অগ্রগতি পাইনি এখনও না। এজাহারে বর্ণিত আসামীগন দিবালোকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়ছে, আসামীদের ঘুরে বেড়ানোর বিষয়ে অবগত করে আসামীদের ধরার বিষয়ে থানা পুলিশকে অবগত করিলেও এজাহারে বর্ণিত নামধারী আসামীগনকে ধরে পুলিশ হেফাজতে নেওয়াতে পারি নাই।
আবার বৈষম্য মামলার আসামী নয় এমন দলীয় পদধারী আসামীদের ধরে বৈসম্যর মামলায় চালান করছে টাকার বিনিময়ে। ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ার কারণে গোবিন্দঞ্জের সাধারণ জনগণ ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতা গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের সেবার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলিতেছে। সাধারণ জনগণের মুখে বলাবলি শুনিতে ও জানিতে পাই যে, থানা পুলিশ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরদের সহিত গোপন সম্পর্ক বজায় রেখে তাদের হাতে হাত মিলিয়ে তাদের দোসরদের মারফতে আসামীদের সহিত বিপুল অংকের আতাতের বিনিময়ে এজাহার আসামীদের অধরা রেখে প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়ানোর সুযোগ করে দিচ্ছেন। যাহার ফলে তাহারা স্যোশাল মিডিয়ায় এক্টিভ থেকে প্রতিনিয়ত স্ট্যাটাস দিয়ে বিভিন্ন ভাবে মিটিং-মিছিলসহ ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশের এমন কর্মকান্ডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র জনতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গণপিটুনি ও নির্মমভাবে চালানো গণহত্যাসহ বিভিন্ন মামলার অপরাধীদের বিচার হবে কিনা আর বাদীগন বিচার পাবে কি না এমন প্রশ্ন জেকে বসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ও আহতের পরিবার বর্গসহ জনসাধারণের মনে ।
এসব ব্যাপারে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর নেতারা বলেন, দলীয় যারা সহিংসতায় ছিল, মামলায় যারা অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে আরও আগে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। প্রশাসনসহ সবাইকে বলেছি যে, আপনারা দ্রুত ব্যবস্থা নেন। এটা দুর্ভাগ্যজনক, আসামিদের ধরতে ব্যর্থ গোবিন্দগঞ্জ পুলিশ, হ্যাঁ, প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণে অনেক সময় আসামী ধরা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দুর্বলতা, দুর্নীতি, এবং সদিচ্ছার অভাব এর জন্য দায়ী।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলেন, ‘প্রথমত পুলিশের অবহেলা আছে। সন্ত্রাসীদের ধরতে যেতে তারা ভয় পাচ্ছে কি না আল্লাহ ভালো জানেন। দ্বিতীয় বিষয় হলো, অনেকে টাকা-পয়সা দিয়ে কনভেন্স করছে, তাই ওদেরকে ধরছে না। যার ফলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরা এখনও আমাদের হুমকি দিয়ে চলেছে এবং বাসার ইট খুলে নিতে চায় এখনও। যারা বিএনপি ও ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় জড়িত ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের চিহ্নিত দলীয় পদধারী এজাহার নামীয় আসামী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ধরে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাই।’
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, আমি নতুন এসেছি, তবে মামলার তদন্তকাজ সঠিক ভাবে চলছে। আসামীগন পলাতক থাকায় আসামিদের গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। তবে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।





















