ঢাকা ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শ্যামনগরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে সংখ্যালঘুর জমি দখল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী

গোবিন্দগঞ্জে নিয়ম বহির্ভূত অধ্যক্ষ ও দায়িত্ব প্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষর দলাদলিতে


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০২:১৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৪
  • / ২১০৪ বার পড়া হয়েছে

দুর্নীতির মহা উৎসবে মেতে উঠেছেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শিবপুর ইউনিয়নের শোলাগাড়ী আলিম সিনিয়র মাদ্রাসার ভুয়া অধ্যক্ষ মিনহাজ ও তার সিন্ডিকেট। উপজেলার ঐহিত্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শোলাগাড়ী আলিম সিনিয়র মাদ্রাসার ভুয়া অধ্যক্ষ মিনহাজ উদ্দীনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ বানিজ্য, অতিরিক্ত টাকা আদায়, সেচ্ছাচারিতা, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজী কার্যকলাপ, নৈতিক প্রভাব খাটানোসহ নানা অনিয়ম- দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।


জনাব মোঃ মিনহাজ উদ্দিন বিগত ০৯-১০-২০০৩ খ্রীঃ তারিখে কৃষি শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক হিসাবে অত্র মাদ্রাসায় যোগদান করে ০১-০১-২০০৪ খ্রীঃ তারিখে এমপিও ভুক্ত হয়। মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষক জনাব মিনহাজ উদ্দিন কাম্যযোগ্যতা ছাড়াই আওয়ামীলীগ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কমিটিকে প্রভাবিত করিয়া সরকারী বিধিকে তোয়াক্কা না করিয়া অবৈধ প্রক্রিয়ায় ২০১২ সালে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ লাভ করিয়াছে। ২০১২ সালে নিয়োগ লাভ করিলেও তাহার কাম্যযোগ্যতা না থাকায় অধ্যক্ষ পদের বেতন করিতে পারে নাই। উল্লেখ্য যে, তিনি অদ্যাবধি কৃষি শিক্ষক হইয়া নিজেকে অধ্যক্ষ দাবি করে ০২টি পদ আগলে ধরে রেখে বহাল তবিয়তে এখনও কৃষি শিক্ষক পদে বেতন ভাতা উত্তোলন করিতেছে।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত) আলোকে আলিম মাদ্রাসা অধ্যক্ষ পদের জন্য উপাধ্যক্ষ/সহকারী অধ্যাপক পদে ০৩ বছরের অভিজ্ঞতা এবং প্রভাষক হিসাবে আরবি বিষয়সমূহ সহ ০৯ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা অথবা দাখিল মাদ্রাসার সুপার হিসেবে ০৫ বছরের অভিজ্ঞতা (আরবি বিষয়সমূহে) ১০ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার বিধান রয়েছে। কিন্তু উক্ত মাদ্রাসার বর্তমান অধ্যক্ষ আরবি বিষয়ক শিক্ষক ছিলেন মর্মে প্রতিমান না হওয়ায় এবং তাহার অধ্যক্ষ পদের নিয়োগ বিধি সম্মত না হওয়ায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড অধ্যক্ষ পদ হইতে ১৩-০৪-২০২১ ইং তারিখে মিনহাজ উদ্দিন কে অপসারণ করে। মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষ না থাকায় জ্যেষ্ঠ সহকারী অধ্যাপক মোঃ মোজহারুল ইসলাম কে গত ২১-০৯-২০২৩ ইং তারিখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব অর্পণ করেন। অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব অর্পণ করিলে জনাব মিনহাজ উদ্দিন তাহার প্রতি হিংসার বসিভূত হইয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে মিথ্যা মামলা, তার লেলিয়ে দেওয়া বাহিনী দ্বারা তার সস্তানকে জখম, বাড়ী ঘর লুটপাট করে এবং তাহার ভিটা বাড়ী উচ্ছেদসহ হত্যার হুমকি দিতে থাকে। গত ০৪-১১-২০২৪ ইং তারিখে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে লাঞ্চিত করে এবং মিনহাজ্জ উদ্দিনের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজী বাহিনীর কার্যকলাপে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগিতেছে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। উল্লেখ্য কৃষি শিক্ষক জনাব মিনহাজ উদ্দিন প্রতিষ্ঠানে জখমী মামলা যাহার নং- ৪৪৭/২০২৩, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে হত্যা মামলা সহ একাধিক মামলার আসামী।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, মিনহাজ উদ্দিনের পিতা ইদ্রিস আলী ইতিপূর্বে স্থানীয় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শোলাগাড়ী ঈদগাহ আলিম মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সেক্রেটারী ছিলেন। পিতা সেক্রেটারী থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক কৌশলে জাল ও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিজেকে সহকারী কৃষি শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ লাভ করান। নিয়মবর্হিভুত ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ লাভ করার পর থেকে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছে। অধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষর দলাদলির কারণে মাদ্রাসার দিন দিন লেখাপড়ার মান খারাপ হচ্ছে। অধ্যক্ষ সহ অনেক শিক্ষকই সপ্তাহে একদিন আসেন। আবার কোন সপ্তাহে আসেনও না। দুই শিক্ষকের মধ্যে দলা-দলির কারণে এমন সুযোগটি নিচ্ছেন অন্য শিক্ষকরা। এদিকে দীর্ঘদিন থেকে মিনহাজ উদ্দিনের নামে একাধিক মামলা থাকায় ঠিকমত মাদ্রাসায় না আসায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে, ক্লাস করতে এসে শিক্ষক সংকট থাকায় ক্লাস না করতে পেরে হতাশা নিয়ে বাসায় ফিরছে শিক্ষার্থীরা। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ক্লাস ঠিকমত না হওয়ায় দিন দিন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আমরা হতাশায় ভুগছি কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা, তারা বলেন শিক্ষার্থীদের প্রাণ হলো শিক্ষক, কিন্তু সেই প্রাণ আমাদের মাদ্রাসাই নেই।

কথা হয় বেশ কয়েকজন অভিভাবক ও প্রাক্তন ছাত্রের সাথে, তারা বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ক্ষমতার দাপটে টাকার বিনিময়ে মিনহাজ অবৈধভাবে অধ্যক্ষ নিয়োগপ্রাপ্ত হলে এলাকায় সমালোচনায় ও দুই শিক্ষকের দলাদলির কারণে মাদ্রাসার লেখাপড়ার মান দিন দিন খারাপ হচ্ছে এটা আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। আমরা চায় কোন নতুন মুখ আসুক এবং মাদ্রাসার লেখা পড়ার মান ফিরিয়ে আসুক।


অত্র এলাকার সচেতন ব্যক্তি শহিদুজ্জামান প্রধান জানান আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষকসহ সিন্ডিকেট করে নানা অনিয়ম দুর্নীতি শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়, বিনা রশিদে অর্থ আদায়, ভুয়া বিল করে টাকা আত্মসাত, নিয়োগ বাণিজ্য, উপবৃত্তির শিক্ষার্থী নির্বাচনে অনিয়ম, সহ নানা অনিয়ম দুর্নীতি শুরু করেন। এমনকি মাদ্রাসার শিক্ষার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ভূয়া অধ্যক্ষ ঠিকমত মাদ্রাসায় আসেন না কখনো শ্রেণি কক্ষে পাঠদান করতেন না। এমনকি এসব অনিয়ম নিয়ে এলাকার কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে উল্টো রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে হুমকি-ধমকি ও নানা ভাবে হয়রানি করা হতো। তৎকালীন সরকারের ক্ষমতাধর জনপ্রতিনিধির ছত্র ছায়ায় ভূয়া অধ্যক্ষ নির্বিঘ্নে নিজের অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। ভূয়া অধ্যক্ষর অপসারণও শাস্ত্রিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা জানান, অভিযোগ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে তদন্ত এবং জিপির মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে মতামত আসলে প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

গোবিন্দগঞ্জে নিয়ম বহির্ভূত অধ্যক্ষ ও দায়িত্ব প্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষর দলাদলিতে

আপডেট সময় : ০২:১৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৪

দুর্নীতির মহা উৎসবে মেতে উঠেছেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শিবপুর ইউনিয়নের শোলাগাড়ী আলিম সিনিয়র মাদ্রাসার ভুয়া অধ্যক্ষ মিনহাজ ও তার সিন্ডিকেট। উপজেলার ঐহিত্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শোলাগাড়ী আলিম সিনিয়র মাদ্রাসার ভুয়া অধ্যক্ষ মিনহাজ উদ্দীনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ বানিজ্য, অতিরিক্ত টাকা আদায়, সেচ্ছাচারিতা, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজী কার্যকলাপ, নৈতিক প্রভাব খাটানোসহ নানা অনিয়ম- দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।


জনাব মোঃ মিনহাজ উদ্দিন বিগত ০৯-১০-২০০৩ খ্রীঃ তারিখে কৃষি শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক হিসাবে অত্র মাদ্রাসায় যোগদান করে ০১-০১-২০০৪ খ্রীঃ তারিখে এমপিও ভুক্ত হয়। মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষক জনাব মিনহাজ উদ্দিন কাম্যযোগ্যতা ছাড়াই আওয়ামীলীগ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কমিটিকে প্রভাবিত করিয়া সরকারী বিধিকে তোয়াক্কা না করিয়া অবৈধ প্রক্রিয়ায় ২০১২ সালে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ লাভ করিয়াছে। ২০১২ সালে নিয়োগ লাভ করিলেও তাহার কাম্যযোগ্যতা না থাকায় অধ্যক্ষ পদের বেতন করিতে পারে নাই। উল্লেখ্য যে, তিনি অদ্যাবধি কৃষি শিক্ষক হইয়া নিজেকে অধ্যক্ষ দাবি করে ০২টি পদ আগলে ধরে রেখে বহাল তবিয়তে এখনও কৃষি শিক্ষক পদে বেতন ভাতা উত্তোলন করিতেছে।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত) আলোকে আলিম মাদ্রাসা অধ্যক্ষ পদের জন্য উপাধ্যক্ষ/সহকারী অধ্যাপক পদে ০৩ বছরের অভিজ্ঞতা এবং প্রভাষক হিসাবে আরবি বিষয়সমূহ সহ ০৯ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা অথবা দাখিল মাদ্রাসার সুপার হিসেবে ০৫ বছরের অভিজ্ঞতা (আরবি বিষয়সমূহে) ১০ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার বিধান রয়েছে। কিন্তু উক্ত মাদ্রাসার বর্তমান অধ্যক্ষ আরবি বিষয়ক শিক্ষক ছিলেন মর্মে প্রতিমান না হওয়ায় এবং তাহার অধ্যক্ষ পদের নিয়োগ বিধি সম্মত না হওয়ায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড অধ্যক্ষ পদ হইতে ১৩-০৪-২০২১ ইং তারিখে মিনহাজ উদ্দিন কে অপসারণ করে। মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষ না থাকায় জ্যেষ্ঠ সহকারী অধ্যাপক মোঃ মোজহারুল ইসলাম কে গত ২১-০৯-২০২৩ ইং তারিখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব অর্পণ করেন। অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব অর্পণ করিলে জনাব মিনহাজ উদ্দিন তাহার প্রতি হিংসার বসিভূত হইয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে মিথ্যা মামলা, তার লেলিয়ে দেওয়া বাহিনী দ্বারা তার সস্তানকে জখম, বাড়ী ঘর লুটপাট করে এবং তাহার ভিটা বাড়ী উচ্ছেদসহ হত্যার হুমকি দিতে থাকে। গত ০৪-১১-২০২৪ ইং তারিখে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে লাঞ্চিত করে এবং মিনহাজ্জ উদ্দিনের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজী বাহিনীর কার্যকলাপে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগিতেছে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। উল্লেখ্য কৃষি শিক্ষক জনাব মিনহাজ উদ্দিন প্রতিষ্ঠানে জখমী মামলা যাহার নং- ৪৪৭/২০২৩, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে হত্যা মামলা সহ একাধিক মামলার আসামী।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, মিনহাজ উদ্দিনের পিতা ইদ্রিস আলী ইতিপূর্বে স্থানীয় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শোলাগাড়ী ঈদগাহ আলিম মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সেক্রেটারী ছিলেন। পিতা সেক্রেটারী থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক কৌশলে জাল ও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিজেকে সহকারী কৃষি শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ লাভ করান। নিয়মবর্হিভুত ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ লাভ করার পর থেকে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছে। অধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষর দলাদলির কারণে মাদ্রাসার দিন দিন লেখাপড়ার মান খারাপ হচ্ছে। অধ্যক্ষ সহ অনেক শিক্ষকই সপ্তাহে একদিন আসেন। আবার কোন সপ্তাহে আসেনও না। দুই শিক্ষকের মধ্যে দলা-দলির কারণে এমন সুযোগটি নিচ্ছেন অন্য শিক্ষকরা। এদিকে দীর্ঘদিন থেকে মিনহাজ উদ্দিনের নামে একাধিক মামলা থাকায় ঠিকমত মাদ্রাসায় না আসায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে, ক্লাস করতে এসে শিক্ষক সংকট থাকায় ক্লাস না করতে পেরে হতাশা নিয়ে বাসায় ফিরছে শিক্ষার্থীরা। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ক্লাস ঠিকমত না হওয়ায় দিন দিন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আমরা হতাশায় ভুগছি কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা, তারা বলেন শিক্ষার্থীদের প্রাণ হলো শিক্ষক, কিন্তু সেই প্রাণ আমাদের মাদ্রাসাই নেই।

কথা হয় বেশ কয়েকজন অভিভাবক ও প্রাক্তন ছাত্রের সাথে, তারা বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ক্ষমতার দাপটে টাকার বিনিময়ে মিনহাজ অবৈধভাবে অধ্যক্ষ নিয়োগপ্রাপ্ত হলে এলাকায় সমালোচনায় ও দুই শিক্ষকের দলাদলির কারণে মাদ্রাসার লেখাপড়ার মান দিন দিন খারাপ হচ্ছে এটা আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। আমরা চায় কোন নতুন মুখ আসুক এবং মাদ্রাসার লেখা পড়ার মান ফিরিয়ে আসুক।


অত্র এলাকার সচেতন ব্যক্তি শহিদুজ্জামান প্রধান জানান আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষকসহ সিন্ডিকেট করে নানা অনিয়ম দুর্নীতি শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়, বিনা রশিদে অর্থ আদায়, ভুয়া বিল করে টাকা আত্মসাত, নিয়োগ বাণিজ্য, উপবৃত্তির শিক্ষার্থী নির্বাচনে অনিয়ম, সহ নানা অনিয়ম দুর্নীতি শুরু করেন। এমনকি মাদ্রাসার শিক্ষার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ভূয়া অধ্যক্ষ ঠিকমত মাদ্রাসায় আসেন না কখনো শ্রেণি কক্ষে পাঠদান করতেন না। এমনকি এসব অনিয়ম নিয়ে এলাকার কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে উল্টো রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে হুমকি-ধমকি ও নানা ভাবে হয়রানি করা হতো। তৎকালীন সরকারের ক্ষমতাধর জনপ্রতিনিধির ছত্র ছায়ায় ভূয়া অধ্যক্ষ নির্বিঘ্নে নিজের অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। ভূয়া অধ্যক্ষর অপসারণও শাস্ত্রিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা জানান, অভিযোগ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে তদন্ত এবং জিপির মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে মতামত আসলে প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।