ঢাকা ০৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

জুলাই বিপ্লবের হটস্পট ছিল উত্তরা, দিতে হয় কঠিন মূল্যও


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ১০:৫৩:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪
  • / ২১০৭ বার পড়া হয়েছে

জুলাইজুড়ে এয়ারপোর্ট থেকে আবদুল্লাহপুর ছিল রণক্ষেত্র। ফাইল ছবি

জুলাইজুড়ে উত্তরা ছিল রণক্ষেত্র। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর সঙ্গে রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সাধারণ মানুষও। একদিকে আওয়ামী সরকারের পুলিশ বাহিনীর নির্বিচার গুলি, অন্যদিকে ছাত্র-জনতার আত্মাহুতি। ফলাফল মুগ্ধসহ অসংখ্য তাজা প্রাণের অকাল সমাপ্তি।

 

চার বছরের ছোট্ট আলিফা জানালায় মুখ গুঁজে এখনো খুঁজে ফেরে বাবাকে। বছর দশেকের ছোট্ট ছেলে আলভীও শেষবারের মতো দেখতে পায়নি বাবাকে। ১৮ জুলাই উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে নিহত হওয়ার প্রায় ১৫ দিন পর সন্ধান আসে আসাদুল্লাহর। কিন্তু ততদিনে আঞ্জুমান মুফিদুলের কল্যাণে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন রায়ের বাজার কবরস্থানে।
 
এই আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে, তাদের কাছে এখনও দিনগুলো দুঃস্বপ্নের মতো। নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার বুক তাক করে যেভাবে করা হয়েছে গুলি, তা ভেবে এখনও রীতিমতো আঁতকে ওঠেন তারা।
এমনই একজন আসাদুজ্জামান আকাশ। ১৮ জুলাই, যেদিন উত্তরা পরিণত হয়েছিল রণক্ষেত্রে, ঠিক সেদিন একটি বুলেট এসে তার পেটের সামনে দিয়ে ঢুকে বেরিয়ে যায় পিঠ দিয়ে। প্রাণে বাঁচলেও এখনও আছে তীব্র যন্ত্রণা।
 
পুলিশের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় আইইউটির ছাত্র তানভীন। তার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, নিজ হাতে বানানো ড্রোন। শুধু কি তাই! ঘরজুড়ে অনেক অনেক সরঞ্জাম এখনো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। তবে এখন আর নেই, একসময় এগুলোর নেশায় মত্ত থাকা আইইউটির ছাত্র তানভীন। জুলাইয়ের ১৮ তারিখ পুলিশের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় তার দেহ। মা এখনও স্মৃতি হাতড়ে বেড়ান। বাবারও রাষ্ট্রের কাছে আর নেই কোনো চাওয়া।
এই যন্ত্রণা ভুলে কবে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব হবে তা জানা নেই পরিবারের কারো। এই তরুণরা কখনও হয়েছেন হামলার শিকার কখনও যন্ত্রণায় কাতরানো বন্ধুকে নিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন হাসপাতালে। এখন তাদের চাওয়া, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যথাযথ সম্মান পাবে আহতরা।
 
এদিকে গত শনিবার (২১ ডিসেম্বর) গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল থেকে প্রথম ধাপে ৮৫৮ জন শহীদ এবং ১১ হাজার ৫৫১ জন আহতের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
 
জুলাই বিপ্লবের ধারাবাহিকথায় গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান।। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগেই আওয়ামী লীগের অনেক মন্ত্রী, এমপি বিদেশে পালিয়ে যান। দেশে থাকা মন্ত্রী, এমপিরাও রয়েছেন আত্মগোপনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেফতার হয়েছেন অনেকে।
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

জুলাই বিপ্লবের হটস্পট ছিল উত্তরা, দিতে হয় কঠিন মূল্যও

আপডেট সময় : ১০:৫৩:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪

জুলাইজুড়ে উত্তরা ছিল রণক্ষেত্র। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর সঙ্গে রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সাধারণ মানুষও। একদিকে আওয়ামী সরকারের পুলিশ বাহিনীর নির্বিচার গুলি, অন্যদিকে ছাত্র-জনতার আত্মাহুতি। ফলাফল মুগ্ধসহ অসংখ্য তাজা প্রাণের অকাল সমাপ্তি।

 

চার বছরের ছোট্ট আলিফা জানালায় মুখ গুঁজে এখনো খুঁজে ফেরে বাবাকে। বছর দশেকের ছোট্ট ছেলে আলভীও শেষবারের মতো দেখতে পায়নি বাবাকে। ১৮ জুলাই উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে নিহত হওয়ার প্রায় ১৫ দিন পর সন্ধান আসে আসাদুল্লাহর। কিন্তু ততদিনে আঞ্জুমান মুফিদুলের কল্যাণে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন রায়ের বাজার কবরস্থানে।
 
এই আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে, তাদের কাছে এখনও দিনগুলো দুঃস্বপ্নের মতো। নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার বুক তাক করে যেভাবে করা হয়েছে গুলি, তা ভেবে এখনও রীতিমতো আঁতকে ওঠেন তারা।
এমনই একজন আসাদুজ্জামান আকাশ। ১৮ জুলাই, যেদিন উত্তরা পরিণত হয়েছিল রণক্ষেত্রে, ঠিক সেদিন একটি বুলেট এসে তার পেটের সামনে দিয়ে ঢুকে বেরিয়ে যায় পিঠ দিয়ে। প্রাণে বাঁচলেও এখনও আছে তীব্র যন্ত্রণা।
 
পুলিশের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় আইইউটির ছাত্র তানভীন। তার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, নিজ হাতে বানানো ড্রোন। শুধু কি তাই! ঘরজুড়ে অনেক অনেক সরঞ্জাম এখনো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। তবে এখন আর নেই, একসময় এগুলোর নেশায় মত্ত থাকা আইইউটির ছাত্র তানভীন। জুলাইয়ের ১৮ তারিখ পুলিশের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় তার দেহ। মা এখনও স্মৃতি হাতড়ে বেড়ান। বাবারও রাষ্ট্রের কাছে আর নেই কোনো চাওয়া।
এই যন্ত্রণা ভুলে কবে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব হবে তা জানা নেই পরিবারের কারো। এই তরুণরা কখনও হয়েছেন হামলার শিকার কখনও যন্ত্রণায় কাতরানো বন্ধুকে নিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন হাসপাতালে। এখন তাদের চাওয়া, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যথাযথ সম্মান পাবে আহতরা।
 
এদিকে গত শনিবার (২১ ডিসেম্বর) গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল থেকে প্রথম ধাপে ৮৫৮ জন শহীদ এবং ১১ হাজার ৫৫১ জন আহতের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
 
জুলাই বিপ্লবের ধারাবাহিকথায় গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান।। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগেই আওয়ামী লীগের অনেক মন্ত্রী, এমপি বিদেশে পালিয়ে যান। দেশে থাকা মন্ত্রী, এমপিরাও রয়েছেন আত্মগোপনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেফতার হয়েছেন অনেকে।